শিক্ষকগণ একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন : উচ্চশিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, সেপ্টেম্বর ৬, : শিক্ষকগণ একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন। ছাত্রছাত্রীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। দায়িত্বশীল ও সক্ষম নাগরিক তৈরি করে শিক্ষকরাই একটি শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে পারেন। ৫ সেপ্টেম্বর আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১ নম্বর হলে ৬৫তম শিক্ষক দিবস-২০২৬-এর রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কিশোর বর্মন তাঁর ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করেন এবং নিজের স্কুলজীবনে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর শিক্ষকরা কীভাবে তাঁকে পথ দেখিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, সেই স্মৃতি আজও তাঁর মনে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের গুরুত্ব এখন আরও বেড়েছে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং এআই এখন তথ্য ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। কিন্তু চরিত্র গঠন, সাহস জোগানো এবং অর্থবহ প্রশ্ন করার ক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বিকল্প হতে পারে না। তিনি ছাত্রছাত্রীদের শুধুমাত্র চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে পড়াশোনা না করার আহ্বান জানান। এর পরিবর্তে তিনি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন, যাতে তারা নিজেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। অনুষ্ঠানে এ বছরের পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম ও সততা। একই সঙ্গে তিনি সেই হাজার হাজার শিক্ষকের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান, যারা হয়তো আজ কোনো পুরস্কার পাবেন না, কিন্তু প্রতিদিন নীরবে ছাত্রছাত্রীদের জীবন গড়ে তুলছেন।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ভারতের প্রাচীন শিক্ষা-ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি নালন্দা ও বিক্রমশিলার মতো প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্রের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে আসতেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে শুধুমাত্র পরীক্ষা গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে না তুলে জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং চরিত্র গঠনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। স্বাগত ভাষণে বিদ্যালয় শিক্ষা অধিকর্তা ড. সমিত রায় চৌধুরী প্রজন্মের পর প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এদিন মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের আগে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গণে একটি আলোকচিত্র গ্যালারিরও উদ্বোধন করেন। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাফল্যের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জীবন ও অবদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছবিও প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দহরি জমাতিয়া, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা এবং এসসিইআরটি'র অধিকর্তা এল. দারলং উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন...