পুজোর ঢাকে কাঠি পড়া শেষ : এবার ভোটের ঢাকে কাঠি পড়া
সমর চক্রবর্তী
October 21, 2026
বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুজোতে এবার এক বিষাদময় ঘটনার সাক্ষী থাকলেও বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা রাজ্যে কিন্তু শারোদৎসবের দিনগুলো কেটেছে যথেষ্ট আনন্দঘন পরিবেশে।এবছর পুজোর দিনগুলোর একটি দিনেও বিন্দুমাত্র বৃষ্টির ভ্রুকুটি ছিলনা।একেবারে বলা যায় শরতের এক আদর্শ পরিবেশ। ষষ্ঠী,সপ্তমীতে ট্রাফিক নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও অষ্টমী পুজোর সন্ধ্যা থেকেই ট্রাফিক ব্যবস্হা ছিল একেবারে আঁটোসাঁটো।এবার সপ্তমী দুদিন পড়ায় বলা যায় দশমী নিয়ে পুজো কেটেছে পাঁচদিন।পরিবেশ পরিস্থিতি ও আইন শৃঙ্খলা এবং সেইসাথে আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর পুজো এনজয় করা গেছে পাঁচদিন।ধর্মনগরের দেওয়ানপাশায় একটি ঘটনা ছাড়া এবছরের পুজো অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে কেটেছে গোটা রাজ্যেই।
এবারকার পুজোয় পুজো মন্ডপের পাশাপাশি বেশ দাপট লক্ষ্য করা গেল ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের ফ্ল্যাক্স ফেস্টুনে শহরবাসীকে শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানানোর হিড়িকে।অবশ্য নিন্দুকেরা ইতিমধ্যে বলাবলি শুরু করে দিয়েছে যে,পুজো তো মূলতঃ সাধারণ ভক্তদের মনে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা তো পুজোর চাইতে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন ভোট নিয়ে।এ যেন পুজোর ঢাকে কাঠি পড়া নয়।তাদের কাছে ভোটের ঢাকে কাঠি পড়া।
গোটা আগরতলা শহরের পথঘাট মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা আর আগরতলার পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদারের শারদীয়া শুভেচ্ছার ফ্ল্যাক্স ফেস্টুনে শহর এখন ছয়লাপ।রাত পোহালেই পুরভোটের কাউন্ট- ডাউন শুরু।দশমীর পর পরই ভোটের ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্যে পুর ভোটের বাজনা বেজে উঠবে।আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের সবকটি পুর সংস্হার নতুন বডি গঠন করে নিতে হবে।কারণ ৯ ডিসেম্বর বর্তমানের পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।ইতিমধ্যে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর রাজ্যের ১টি পুর নিগম ১৩ টি পুরসভা এবং ৬ টি নগর পঞ্চায়েতের মোট ২০ টি সংস্হার মোট ভোটার তালিকাও প্রকাশ করে দিয়েছেন।এবারকার রাজ্যে মোট ভোটার রয়েছে ৬,২৯,৯০৩।এরমাঝে পুরুষ -৩,০৮,১১৫।মহিলা ভোটার-৩,২১,৭৪৩। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে-৪৫ জন। আগরতলা পুর নিগমের অধীনে ভোটার রয়েছে ৩,৬২,৫৮২।সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতে ৫,৬৭৮।মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৭৮৩।
আগরতলা পুর নিগমে ওয়ার্ড রয়েছে ৫১ টি। এবং সবকটিই ক্ষমতাসীন বিজেপির দখলে রয়েছে।
এই মুহূর্তে ক্ষমতাসীন বিজেপি দল ও সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকছে পুর নিগম দখলের পাশাপাশি বিগত পুরনিগমের ভোট সাফল্যকে ধরে রাখা।
অপরদিকে সিপিএম ও কংগ্রেস দলের কাছে এই পুর ভোট হতে চলেছে ২০২৮ এর "ডু অর ডাই" এর চ্যালেঞ্জিং ভোট।
সে যাই হোক- পুজোর ঢাকের কাঠির পরে এবার ভোটের ঢাকে কাঠির আওয়াজে রাজ্য রাজনীতি পুনরায় সরগরম হয়ে উঠল বলে।
আরও পড়ুন...