শেষ চিঠি
দেবজিৎ শীল
নবম শ্রেণী, ছ বিভাগ ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির
October 28, 2026
শহরের এক ছোট্ট পাড়ায় থাকত অর্ণব। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্প ও কবিতা লিখতে সে খুব ভালোবাসত। কিন্তু তার বন্ধুরা প্রায়ই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। তারা বলত, “এসব লিখে কী হবে? বড় হয়ে তো সবাই চাকরি করবে!”অর্ণব কিছু বলত না। প্রতিদিন রাতে জানালার পাশে বসে সে নিজের মনের কথাগুলো কাগজে লিখে রাখত।একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে অর্ণব রাস্তার ধারে একটি পুরোনো ডাকবাক্স দেখতে পেল। আশ্চর্যের বিষয়, বাক্সটির পাশে একটি চিঠি পড়ে ছিল। চিঠির খামে লেখা— “যে মানুষটি এই চিঠি পাবে, তার জন্য।”কৌতূহলী হয়ে অর্ণব চিঠিটি পড়ল।চিঠিতে লেখা ছিল, “হয়তো তুমি ভাবছ, তোমার স্বপ্নের কোনো মূল্য নেই। কিন্তু মনে রেখো, পৃথিবীর প্রতিটি বড় পরিবর্তনের শুরু হয়েছিল কারও ছোট্ট একটি স্বপ্ন থেকে। তাই অন্যের কথায় নিজের স্বপ্নকে হারিয়ে ফেলো না।”চিঠিটির নিচে কোনো নাম বা ঠিকানা ছিল না।সেদিনের পর অর্ণব আরও মন দিয়ে লিখতে শুরু করল। কয়েক মাস পরে তার লেখা একটি গল্প স্কুলের পত্রিকায় প্রকাশিত হলো। শিক্ষকরা প্রশংসা করলেন, বন্ধুরাও তার প্রতিভা বুঝতে পারল।এক সন্ধ্যায় অর্ণব আবার সেই পুরোনো ডাকবাক্সটির কাছে গেল। কিন্তু সেখানে ডাকবাক্সটি আর নেই।অর্ণব মৃদু হেসে ভাবল, “চিঠিটি হয়তো কোনো মানুষ আমাকে দেয়নি; হয়তো আমার নিজের স্বপ্নই আমাকে সাহস দিয়েছিল।”
সেদিন থেকে অর্ণব বুঝেছিল—স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অন্যের অবহেলা নয়, নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা।
আরও পড়ুন...