ভবিষ্যতের চিঠি
অভিনব রায়
নবম শ্রেণি, ভবনস ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির
October 23, 2026
২৭ শে সেপ্টেম্বর ২০১৫ । রাত তখন ঠিক পৌনে বারোটা । বাইরে ঝমঝমিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে । ঘরের টেবিলে বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ক্লান্ত চোখে হাই তুলল সায়ন্তন । সে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার । গত তিনদিন ধরে একটি জটিল কোডিংয়ের সমস্যায় তার ঘুম নেই । কফি খেয়ে সে যখন ল্যাপটপটি বন্ধ করতে যাবে, ঠিক তখন ই স্ক্রিনের নিচে ডান কোনায় একটি নোটিফিকেশন আসল— "You have received a new mail."
সায়ন্তন একটু অবাক হলো । এত রাতে কে মেইল করবে ? সে ইনবক্সটি খুলল । প্রেরকের নাম দেখে তার গা ঠান্ডা হয়ে গেল । মেইলটি এসেছে খোদ তার ইমেল আইডি থেকেই । কিন্তু আরও বড় ধাক্কা খেল মেইলের তারিখটা দেখে । সেখানে লেখা— ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০৫০ ।
প্রথমে ভাবল কেউ হয়তো কোনো স্প্য়াম মেইল পাঠিয়েছে । কিন্তু কৌতূহল সামলাতে না পেরে মেইলটি ওপেন করল । তাতে লেখা :
“প্রিয় সায়ন্তন”
জানি এই মেইলটি দেখে তুমি কোনো রসিকতা ভাবছ । কিন্তু ৩৫ বছর পরের তুমিই আমি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং টাইম-লুপ টেকনোলজির একটা গোপন পরীক্ষার মাধ্যমে আমি এই মেইলটি অতীতে পাঠাতে পেরেছি । আমাদের হাতে একদম সময় নেই । আগামীকাল অর্থাৎ ২৮শে সেপ্টেম্বর সকালে তোমার কাছে 'নেক্সাস টেকনোলজিস' থেকে একটি বড় চাকরির অফার আসবে । তোমার কাছে মনে হবে এটাই জীবনের বড় সুযোগ । কিন্তু সায়ন্তন, তুমি এই অফারটি গ্রহণ করবে না।
যদি তুমি এই চাকরিতে যোগ দাও, তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে (২০২০) তুমি এক কৃত্রিম (AI) প্রজেক্ট পাবে; যা ২০৩৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেবে, আর তার ফলে ২০৫০ সালের এই পৃথিবীর মানুষ রোবটদের কবজায় চলে যাবে।
এই ভুলটা শুধরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা শুধু তোমার মধ্যেই আছে। নিজের ভবিষ্যৎ এবং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বাঁচাও, অফারটা ফিরিয়ে দাও।
ইতি,
তোমার ভবিষ্যৎ রূপ
মেইলটি পড়ে সায়ন্তন অবাক (surprise) হয়ে গেল। সারা রাত সে ঘুমাতে পারেরি । তার মনে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন জাগতে থাকে । এটা কি কোনো চাল ? নাকি সত্যি ?
পরদিন সকাল ১০টায় ল্যাপটপ খুলতেই সায়ন্তনের বুক ধক ধক করে উঠল। ঠিক যেমনটা মেইলটিতে লেখা ছিল, ঠিক তেমনই হয়েছিল । ‘নেক্সাস টেকনোলজিস’ থেকে তার কাছে একটি মেইল এসেছে তারা সায়ন্তনকে (CTO) হিসেবে নিয়োগ করতে চায় । বেতন অনেক বেশি যা মানুষ কখনো চিন্তা করতে পারবে না।
সায়ন্তনের হাত কাঁপতে লাগল, একদিকে তার ক্যারিয়ারের সেরা সুযোগ । অন্যদিকে সেই রহস্যময় চিঠি। যদি চিঠিটি সত্যিই হয় ? সে যদি আসলেই পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ হয়ে ওঠে ?
সাইমন চোখ বন্ধ করল এবং ভাবনা চিন্তা করে সে লিখল "ধন্যবাদ, কিন্তু আমার ইচ্ছা নেই" । এই মেসেজ দিয়ে সে উঠে পড়ল এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল, তার মনে হয়েছে যেন একটি পাথর তার বুক থেকে সরে গিয়েছে। ঠিক তখনই একটি মেইল আসল। মেইলটি ছিল সেই (২০৫০) সাল থেকে। সেখানে ইংরেজীতে লেখা ছিল "God will bless you, thank you".
আরও পড়ুন...