অনন্ত – একটি উৎসবের জন্মকথা
সাগ্নিকশর্মা
একাদশশ্রেণী, ‘ক’ বিভাগ (বিজ্ঞান), ভবন্স ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির
October 17, 2026
সব বড় গল্পের শুরু হয় খুব ছোট্ট একটি মুহূর্ত থেকে।
কোনো একদিন, কোনো এক আলোচনার ফাঁকে হয়তো কেউ বলেছিল—
“আমরা যদি একটা উৎসব করি?”
কথাটা হয়তো খুব সাধারণ ছিল।কিন্তু কিছু সাধারণ কথার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অসাধারণ কিছু শুরু করার সম্ভাবনা।
সেই ছোট্ট ভাবনাটিই একদিন রূপ নিল একটি নামের মধ্যে—অনন্ত।
ভবন্স ত্রিপুরা বিদ্যামন্দিরের ইতিহাসে এটি শুধু আরেকটি অনুষ্ঠান নয়। এটি ছিল একটি নতুন অধ্যায়ের প্রথম পৃষ্ঠা। এমন একটি উৎসব, যার আগে এই স্কুলে এমন কোনো উৎসবের স্মৃতি ছিল না। তাই অনন্ত-কে তৈরি করা মানে শুধু একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা নয়; বরং এমন একটি স্মৃতি তৈরি করা, যার আগে কোনো স্মৃতি ছিল না।
একটি নাম ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেই শুরু হয় আসল কাজ।
ভাবনাগুলো কাগজে নামতে থাকে। দায়িত্ব ভাগ হয়। পরিকল্পনা তৈরি হয়। আবার সেই পরিকল্পনা বদলায়। একটি কাজের সঙ্গে আরেকটি কাজ জুড়ে যায়। কেউ মঞ্চের কথা ভাবে, কেউ সজ্জার; কেউ নথিপত্র সামলায়, কেউ প্রবেশপথের দায়িত্ব নেয়, কেউ খাবারের ব্যবস্থা দেখে। কেউ সামনে থাকে, কেউ থাকে একেবারে আড়ালে।
কিন্তু প্রত্যেকের কাজের শেষ গন্তব্য ছিল একটাই—অনন্ত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎসবটি যেন নিজের একটা জীবন পেতে শুরু করল।প্রথমে ছিল শুধু একটি নাম। তারপর এল পরিকল্পনা। পরিকল্পনার পরে এল দায়িত্ব। দায়িত্বের পরে এল ব্যস্ততা। আর সেই ব্যস্ততার মধ্যেই ধীরে ধীরে তৈরি হতে লাগল অপেক্ষা।
একসময় মনে হল, অনন্তআর শুধু একটি ভবিষ্যৎ অনুষ্ঠান নয়।এটি এখন আমাদের প্রতিদিনের কথার অংশ।
“এটা হয়ে গেল?”
“ওটার দায়িত্ব কে নেবে?”
“মঞ্চের কাজ কতদূর?”
“আর কতদিন বাকি?”
এই ছোট ছোট প্রশ্নগুলোর মধ্যেই তৈরি হচ্ছিল একটি বড় গল্প।কারণ একটি উৎসব শুধু মঞ্চে তৈরি হয় না।
মঞ্চে যে কয়েক ঘণ্টার আলো দেখা যায়, তার পেছনে থাকে অসংখ্য দিনের পরিশ্রম। দর্শকের চোখে যে সাজসজ্জা ধরা পড়ে, তার পেছনে থাকে এমন অনেক হাত, যাদের নাম হয়তো কেউ জানবেও না। একটি অনুষ্ঠান সময়মতো শুরু হওয়ার পেছনে থাকে এমন অনেক মানুষের দায়িত্ব, যাদের কাজ শেষ হয় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই।
আর সম্ভবত সেখানেই একটি উৎসবের সৌন্দর্য।সবাইকে দেখা যায় না।কিন্তু সবাই মিলে উৎসবটিকে দেখা যায়।তারপর আসে সেই প্রতীক্ষিত দিন—১৫ নভেম্বর, ২০২৬।
সেদিন যখন অনন্ত-র দরজা খুলবে, তখন হয়তো কেউ আর মনে রাখবে না প্রথম পরিকল্পনার সেই ছোট্ট কথাটি। কেউ মনে রাখবে মঞ্চের অনুষ্ঠান, কেউ বন্ধুর সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, কেউ কোনো বিশেষ পরিবেশনা, কেউ হয়তো শুধু সেই দিনের ব্যস্ততা আর আনন্দটুকু।
কিন্তু সবকিছুর নিচে থেকে যাবে একটি সত্য—আমরা প্রথমবার কিছু একটা শুরু করেছিলাম।
হয়তো বছর কেটে যাবে। নতুন ব্যাচ আসবে। নতুন উৎসব হবে। অনন্ত-র নামও হয়তো একদিন স্কুলের পুরোনো স্মৃতির অংশ হয়ে যাবে।তবু প্রথমবারের অনুভূতিটা আর দ্বিতীয়বার পাওয়া যায় না।কারণ প্রথমবার আমরা জানতাম না শেষ পর্যন্ত কী হবে।
আমরা শুধু জানতাম—আমাদের সামনে একটি স্বপ্ন আছে।আর সেই স্বপ্নটাকে সত্যি করার জন্য আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি।
এই কারণেই অনন্তশুধু একটি উৎসবের নাম নয়। এটি একটি শুরুর নাম, একটি ভাবনা থেকে বাস্তব হয়ে ওঠার গল্প, অনেক মানুষের একসঙ্গে কিছু সৃষ্টি করার গল্প।
আর হয়তো, বহু বছর পরে যখন আমরা এই সময়টার দিকে ফিরে তাকাব, তখন বুঝব—অনন্তআসলে একটি দিনের উৎসব ছিল না।
অনন্তছিল সেই দিনগুলোর গল্প, যখন একটি স্বপ্ন প্রথমবার আমাদের সবার হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুন...