জামাতিয়া কাস্টমারি ল’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ত্রিপুরাইনফো-র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রতিফলন, ২০১৭ সালের আইনের বৈধতা প্রশ্নের মুখে
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, অক্টোম্বর ২৭, : জামাতিয়া কাস্টমারি ল’, ২০১৭-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ত্রিপুরাইনফো-র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। এই আইনের বিতর্কিত বিধান নিয়ে প্রথমে অ্যাডভোকেট মধুমিতা ভট্টাচার্জির লেখা প্রবন্ধ এবং পরে ত্রিপুরাইনফো-সংবাদদাতার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জনসমক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছিল। এবার সেই আইনের ১৪৩ নম্বর ধারার বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অ্যাডভোকেট মধুমিতা ভট্টাচার্জি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ ও রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করেছে। আবেদনকারী আইনজীবী মধুমিতা ভট্টাচার্যের দাবী মতে, জামাতিয়া কাস্টমারি ল-র ২০১৭-এর ১৪৩ নম্বর ধারার কোন সাংবিধানিক বৈধতা নেই। বিশেষ করে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা প্রথাগত মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ নেই।
এই বিতর্ককে জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ত্রিপুরার প্রথম সংবাদ ওয়েব পোর্টাল ত্রিপুরাইনফো-র ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমে অ্যাডভোকেট মধুমিতা ভট্টাচার্জি তাঁর নিজের লেখা প্রবন্ধে জামাতিয়া কাস্টমারি ল’-এর বিতর্কিত বিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর ত্রিপুরাইনফো-র এক সংবাদদাতার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন দিক এবং সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।
এই ধারাবাহিক প্রকাশনার মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আলোচনার সুযোগ পায়। কিন্ত ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা পরিষদ ও রাজ্য সরকার এই ত্রুটি যুক্ত আইন প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই। তাই শেষ পর্যন্ত অ্যাডভোকেট মধুমিতা ভট্টাচার্জি সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে বিতর্কিত ধারাটির সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকারের আবেদন জানান।
আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবন্ধ ও সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পরও তাঁর উদ্বেগের যথাযথ সমাধান হয়নি। সেই কারণেই তিনি সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টে মধুমিতা ভট্টাচার্জির পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন আইনজীবী সৌমেন্দু মুখার্জি।
আরও পড়ুন...