রাজ্যকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য : কৃষিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, অক্টোম্বর ১৭, : ১৬ অক্টোবর ধর্মনগরের হাফলং-এ নবনির্মিত যুবরাজনগর কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়, কৃষক বন্ধু কেন্দ্র এবং কৃষি উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের দ্বারোদঘাটন করেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে ৩ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অপর একটি দ্বিতল ভবন যেখানে কৃষক বন্ধু কেন্দ্র ও কৃষি উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র একসাথে রয়েছে, সেটা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮২ লক্ষ টাকা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, রাজ্যকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কৃষকদের আয় বাড়ানোই আমাদের মূল অগ্রাধিকার। কৃষকরা আত্মনির্ভর হলেই দেশ আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে। তিনি আরো বলেন, কৃষি হল আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কৃষকদের চাষে অভ্যস্ত করতে হবে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষবাস করে উৎপাদন ও ফলন বাড়াতে হবে, যাতে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরো স্বনির্ভর হতে পারে। কারণ কৃষকরাই আমাদের অন্নদাতা। তারা দিনরাত পরিশ্রম করেন বলেই, সমাজে সকলের খাবারের সংস্থান হয়। রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে যাতে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো উৎপাদন বাড়াতে পারে ও স্বনির্ভর হতে পারে। কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমাদের দেশ কৃষি ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। খাদ্যশস্য, ফল, মশলা ইত্যাদি উৎপাদনে আমাদের দেশ বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আমাদের রাজ্যেও বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৪৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এগ্রি মার্কেট গড়ে তোলা হচ্ছে। শুধুমাত্র কৃষিক্ষেত্রেই নয়, বর্তমান সরকারের সময়ে অন্যান্য ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৬ লাখ ২২ হাজার পরিবারকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় গরীব মানুষের জন্য ৪ লাখ ৯৩ হাজার পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাপতি অপর্ণা নাথ, বিধায়ক জহর চক্রবর্তী, বিধায়ক যাদব লাল দেবনাথ, প্রাক্তন বিধায়ক মলিনা দেবনাথ, জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক বিজয় সিনহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ফনি ভূষণ জমাতিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুবরাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপারসন অপর্ণা সিনহা দেবনাথ। এদিনের অনুষ্ঠানে যুবরাজনগর ব্লকের অন্তর্গত ১০ জন মহিলা কৃষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ মহিলা কৃষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
আরও পড়ুন...