কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও পরিচিতি ছাড়াই বর্তমান সরকারের সময় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাকরি প্রদান করা হচ্ছে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, অক্টোম্বর ১৬, : কোন ধরণের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও পরিচিতি ছাড়াই বর্তমান সরকারের সময় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাকুরী প্রদান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চাকুরী প্রাপকগণ নিজেদের মেধা, অধ্যাবসায় ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এবং নিজ পরিবারের মানুষের ত্যাগের জন্যই চাকুরী পেতে সক্ষম হচ্ছেন। ১৫ অক্টোবর আগরতলায় মাতঙ্গিনী প্রীতিলতা সভাগৃহে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের মোট ২১১ জনকে চাকুরীর নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা উল্লেখ্য এই অনুষ্ঠনে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ কল্যাণ দপ্তরের এগ্রি অফিসার পদে ১৩১ জন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিগ্রী ও ডিপ্লোমা ম্যানেজার পদে ৮০ জনকে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ নিয়োগপত্র তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা চাকুরি প্রাপকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ৫জি, এআই, প্রভৃতি ডিজিটাল ব্যবস্থার সদব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আরও বেশী করে সহায়তা দেওয়ার প্রয়াস নিতে হবে। তিনি বলেন, সবসময় নিজেকে আপডেট রাখার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ নেওয়া শিখতে হবে। তাহলে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আরও সদর্থক উপায়ে কাজ করা সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের প্রতি প্রেম, বিশ্বাস, ভালোবাসা না থাকলে নিজেকে কখনো রাষ্ট্রের উন্নয়নে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করা সম্ভব নয়। বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের বেকার সমস্যা দূরীকরণে সরকারী চাকুরী দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বউদ্যোগী বানানোর প্রচেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ তরুন-তরুণীকে দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তিনি বলেন, রাজ্যে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি উন্নত যন্ত্রপাতি ও বীজ ব্যবহারের প্রয়োজন। বর্তমানে আমাদের রাজ্যে ৪৭ টি কৃষি মহকুমা রয়েছে। রাজ্য সরকার প্রতিটি ব্লকে একটি করে কৃষি মহকুমা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যে এগ্রি সেক্টর অফিস বর্তমান ১৩০টি। ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪৪ হাজারের বেশী কৃষকের কাছ থেকে নূন্যতম সহায়ক ২ লক্ষ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। এরফলে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৫৭৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
পিএম কিষান সম্মাননিধিতে রাজ্যে এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশী কৃষককে ১ হাজার ২১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় ১ লক্ষ ২৯ হাজারের বেশী কৃষককে ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী সয়েল হেলথ কার্ড, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, জৈব চাষ বৃদ্ধি, হাইব্রিড ধান চাষ, মুখ্যমন্ত্রী শস্য শ্যামলা যোজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিদ্যুৎ দপ্তর সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে সাব স্টেশন, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন, ট্রান্সফরমার এবং আধুনিক ক্যাবলিং ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৮ বছরে রাজ্যে ৪৫টি নতুন ৩৩ কেভি সাব- স্টেশন স্থাপন, ৪১০ কিমি. ৩০ কেভি লাইন সম্প্রসারণ, ৫ হাজার ৫১৬টি নতুন ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার স্থাপন, ২ হাজার ৫৮২ কিমি, নতুন কেভি লাইন স্থাপন, ৩৭১ কিমি. ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সম্প্রসারিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পিএম জনমন প্রকল্পে ১১ হাজার ৬৯২টি পিভিটিজি (রিয়াং) পরিবারে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনা প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা প্রভৃতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় কৃষি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, বর্তমানে রাজ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী এবং সিপাহীজলা জেলা খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ, খোয়াই জেলা চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। তাছাড়া ঊনকোটি ও ধলাই জেলা খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যে প্রাকৃতিক ও জৈব চাষ এবং পামওয়েল চাষ এলাকা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। গত ৮ বছরে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরে ৭৮৭ জনকে রেগুলার এবং ডাই-ইন-হারনেসে ১২৭ জনকে চাকুরি দেওয়া হয়েছে। পদন্নোতি দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩৩৬ জনকে। তাছাড়া বিদ্যুৎ দপ্তরে গত ৮ বছরে ৯৯৪ জনকে চাকুরী দেওয়া হয়েছে বলে বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, আজ কৃষি দপ্তরে যে ১৩১ জনকে চাকুরী দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে পুরুষ ৭০ জন এবং মহিলা ৬১ জন। বিদ্যুৎ দপ্তরের ক্ষেত্রে ৫৮ জন পুরুষ এবং ২২ জন মহিলা চাকুরী প্রাপ্ত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় এবং ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন টিএসইসিএল-এর এমডি বিশ্বজিৎ বসু। অনুষ্ঠানে এছাড়াও ছিলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং।
আরও পড়ুন...