শিক্ষক শিক্ষিকারাই হলেন নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, অক্টোম্বর ১৫, : রাজ্য সরকারের লক্ষ্য গুণগত শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে দক্ষ ও উন্নত ত্রিপুরা গড়ে তোলা। রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই শপথ নিয়েছিলো যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষিত বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করবে। তাই চাকরির অফার পেয়ে হাজার হাজার শিক্ষিত যোগ্য বেকার যুবক যুবতীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটেছে। রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরে ২৩ হাজার ৯৮৬ জনকে সরকারি চাকরি দিয়েছে। এছাড়াও আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে ২৬ হাজার যুবক যুবতীকে নিয়োগ করা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের প্রেক্ষাগৃহে স্নাতক শিক্ষকদের চাকরির অফার প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

আজ অনুষ্ঠানে স্নাতক শিক্ষক পদে ১ হাজার ৪৫২ জনকে অফার দেওয়া হয়েছে। এসটিজিটি'র মাধ্যমে নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৬৮৬ জন এবং টেট-২ এর মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য ৭৬৬ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে অফার দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আরও বলেন, টেট-১ উত্তীর্ণদের বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন। এটা আদালতের বিষয়, সেখানে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সরকার উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। সরকারের উদ্যোগ ও কাজের মধ্যে তা ইতিমধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে। গুণগত শিক্ষার জন্যই রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের আনুপাতিক হার সঠিক রাখতে সরকারিভাবে শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ করা হচ্ছে। শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের পাশাপাশি গুণগত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারে সমন্বয় ঘটাতে রাজ্যে ১ হাজার ৩৮৯টি বিদ্যালয়কে আইসিটি প্রকল্পের আওতায় এনেছে।

এছাড়া ১ হাজার ২১০টি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাস ও ৩৬৭টি বিদ্যালয়ে টিস্কারিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। প্রান্তিক অঞ্চল সহ সারা রাজ্যে পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে ও আকর্ষণীয় করতে ২ হাজার ১৩৮টি বিদ্যালয়ে টিএলএম পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ এর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কারমুখী, উৎসাহ সৃষ্টিকারী, শিশুমুখী ও দক্ষতামুখী হিসেবে গড়ে তুলেছে।

রাজ্য সরকার মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষায় উৎসাহ প্রদানে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়িত করছে। এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ছাত্রীকে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার সাথে প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে ছাত্রছাত্রীদের আইপ্যাড প্রদান করা হয়েছে। মেধাবী দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সিএম সাথ প্রকল্পে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায় তার জন্য বিভিন্নভাবে তাদের সহায়তা করা। তিনি বলেন, এছাড়াও সুপার-৩০ সহ নানা প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্নাতক শিক্ষক পদে চাকরির অফার প্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক শিক্ষিকারাই হলেন নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষক শিক্ষিকাদের বলা হয় জাতির মেরুদন্ড। একজন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে পড়ানোর সময় ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সবসময় সহানুভূতিশীল হতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন নতুন বিষয় চর্চার মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিজেদেরও জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষক শুধু একটা চাকরির পদ নয়, শিক্ষক শিক্ষিকা হলেন ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসসিইআরটি-এর অধিকর্তা এল ডার্লং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধ্য ও বুনিয়াদি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা ড. সমিত রায় চৌধুরী।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.