আগরতলা পুরনিগম এলাকাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নগর বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, অক্টোম্বর ৯, : আগরতলা পুরনিগম এলাকাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নগর বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেজন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ৮ অক্টোবর পুরনিগমের ২৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কলেজটিলায় ৬.৮১ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ৬৮০ কিলোলিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন থেকে ভার্চুয়ালি তিনি এই দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ভিত্তিক অভিযোগ জানানোর মাধ্যম কলিং সিস্টেমের সূচনা করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রেপিড রেসপন্স টিমের জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ১০টি গাড়ির যাত্রার সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলেজটিলার দুটি প্রকল্পের জন্য ১৮ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়াও রেপিড রেসপন্স টিম ভেহিক্যাল এবং ট্রাক মাউন্টেড ওয়াটার ট্যাঙ্কারের জন্য ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, নাগরিক বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রথম শর্তই হলো মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা করা। কারণ জল ছাড়া উদ্ভিদ এবং প্রাণীর কোনও অস্তিত্ব থাকে না। বর্তমান তো বটেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতার জন্যও জলের সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই বিষয়টি স্মরণে রেখে রাজ্যের বর্তমান সরকার আগরতলা পুরনিগমের প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহ করার পাশাপাশি এক্ষেত্রে ‘জিরো কমপ্লেইন' এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কলিং সিস্টেম ও এআই বেসড রেসপন্স টিম গড়ে তোলা হয়েছে। এ ধরনের অত্যাধুনিক পরিষেবা রাজ্যে এই প্রথম চালু করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার সরকার' পোর্টালের মাধ্যমে রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষ যেমন উপকৃত হয়েছেন তেমনি এআই বেসড রেসপন্স টিমের মাধ্যমেও পুরনিগমের চারটি জোনের মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নানা পরিকাঠামোগত এবং সংস্কারমূলক কাজের জন্য উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় পূর্ববর্তী সরকারের ২৫ বছর শাসনকালে পানীয়জলের সংস্কারমূলক কাজ করা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বর্তমানে জলের পাইপলাইন সহ নতুন রাস্তাঘাটের কাজের জন্য কিছু এলাকায় মানুষের কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে এটা সাময়িক। খুব সহসাই উন্নয়নমূলক কাজগুলি সম্পন্ন করা হবে। তিনি উন্নত জনবান্ধব আগরতলা গড়ে তুলতে পুরনিগম এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির ভাষণে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, আগরতলা পুরনিগম এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। সর্বত্র বিশুদ্ধ পানীয়জল পৌঁছে দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখার উপরও নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব ডা. মিলিন্দ রামটেকে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা জল বোর্ডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক মিহির কান্তি গোপ। সভাপতিত্ব করেন আগরতলা পুরনিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা পুরনিগম এলাকার দুটি স্বসহায়ক দলের ৪ জন অমৃত মিত্র সদস্যার হাতে পুরস্কার হিসেবে ৫ হাজার টাকা চেক ও স্মারক উপহার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা জল বোর্ডের সাফল্য সম্বলিত একটি সাকসেস স্টোরির বুকলেটের আবরণ উন্মোচন করেন।
আরও পড়ুন...