ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে ভোটদানের হার ৮১.২১ শতাংশ : রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি কে চক্রবর্তী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, সেপ্টেম্বর ৩০, : ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের অন্তর্গত ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮১.২১ শতাংশ। ২৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই সংবাদ জানান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি কে চক্রবর্তী। একই সঙ্গে মাতাবাড়ি আরডি ব্লকের গামারিয়া ভিসির ৩ ও ৪ নম্বর আসনে এবং অমরপুর আরডি ব্লকের পাহাড়পুরের ৪ নম্বর আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী ৩ অক্টোবর এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের ভোটে ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটিতে ৯,৬১,৯৭৭ জন ভোটার ছিল। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং ১১ সেপ্টেম্বর নাম প্রত্যাহারের পর মোট ১,৬৪৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বিজেপির ৮১ জন, তিপ্রা মথার ১,৫৬১ জন, সিপিআই(এম)-এর একজন এবং একজন নির্দল প্রার্থী রয়েছেন। ফলে অবশিষ্ট ৪৪টি আরডি ব্লকের ২,৯৫০টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮,১৭৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণের আগে নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত আধিকারিক, নিরাপত্তাকর্মী এবং অন্যান্য নির্বাচনী কর্মীদের মোট ৬,৬২৮টি ইডিভি ভোট দেওয়া হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের দিন বিকেল ৪টার পর রিটার্নিং অফিসারদের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রথমে প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট পড়ে। তখনও বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ১০,৮৫০ জন ভোটার ভোটদানের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসাররা তাঁদের স্লিপ প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরিতে দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে ভোটদানের হার দাঁড়ায় ৮১.০১ শতাংশ। এর সঙ্গে ইডিভি ভোট যোগ করার পর চূড়ান্ত ভোটদানের হার হয়েছে ৮১.২১ শতাংশ।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি কে চক্রবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত জানান। রাজ্যের সমস্ত ভোটকেন্দ্রে পরিস্থিতি মূলত স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে কমিশনের কাছে মোট আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলির অধিকাংশই পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার বিষয়ে। এ বিষয়ে পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কিছু অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি না থাকায় সেগুলি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত ও অনুসন্ধানের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
নির্বাচনকে সফল করার জন্য সমস্ত ভোটারকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, সেক্টর অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতার জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর, ত্রিপুরা পুলিশ, টিএসআর, সিএপিএফ, আইবি, এসবি-সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিক ও কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন।
আরও পড়ুন...