সোমনাথ মন্দির সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের সঙ্গে ত্রিপুরার পুণ্যার্থীদের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, ২৫ , : সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত “ সোমনাথ স্বাভিমান' পর্বে অংশগ্রহণ করতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ৭০ জন পুণ্যার্থী গুজরাটের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। পুণ্যার্থীদের সঙ্গে ২ জন আধিকারিকও এই সফরে থাকবেন। শুক্রবার পুণ্যার্থীগণ আগরতলা থেকে রওনা হয়ে প্রথমে গুয়াহাটিতে পৌঁছাবেন। পরবর্তীতে উত্তর- পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্য থেকে আগত পুণ্যার্থীদের সঙ্গে বিশেষ ট্রেনে গুজরাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। এই উপলক্ষ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সোমনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী পুণ্যার্থীদের সঙ্গে মিলিত হন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই যাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নয়, বরং দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আস্থার সঙ্গে নিজেদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার একটি সুযোগ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সোমনাথ মন্দির ভারতের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মানুষের অটুট আস্থার অন্যতম প্রতীক। ১০২৬ সালে সোমনাথের ওপর সংঘটিত প্রথম আক্রমণের হাজার বছর এবং সেই সঙ্গে ১৯৫১ সালের মে মাসে স্বাধীন ভারতে মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ ও উদ্বোধনের ৭৫ বছর পূর্তির এক বিশেষ মুহূর্ত হলো ২০২৬ সাল। ১৯৪৭ সালের ১২ নভেম্বর দেশের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সোমনাথ পরিদর্শন করে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালের ১১ মে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে সোমনাথ মন্দিরের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘সোমনাথ স্বাভিমান' পর্বের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ‘বিরাসত ভি, বিকাশ ভি'-এর ভাবনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আস্থাকে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে সোমনাথ মন্দির সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও ধারণা থাকলেও বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মন্দিরের গুরুত্ব এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এবং প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে সোমনাথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ত্রিপুরা থেকে পুণ্যার্থীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে পুণ্যার্থীগণ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। ত্রিপুরাও এই সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে থাকবে না। তাই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পুণ্যার্থীদের নিয়ে একটি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই সফরে ত্রিপুরার প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটনস্থলগুলির কথাও তুলে ধরতে হবে। ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম পীঠ মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির ত্রিপুরায় অবস্থিত। এছাড়াও ঊনকোটি, চতুর্দশ দেবতা মন্দির, কসবা কসবেশ্বরী মন্দির সহ রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ও সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিষয়ে অন্যান্য রাজ্য থেকে আগত পুণ্যার্থীদের অবহিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ'-এর ভাবনাকে সামনে রেখে ত্রিপুরাতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে। সোমনাথ মন্দির সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের সঙ্গে ত্রিপুরার পুণ্যার্থীদের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে। সোমনাথ মন্দির যাত্রায় অংশগ্রহণকারী পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন। সফরকালে যাতে ছোটখাটো অসুস্থতা বা শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী সঙ্গে রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক মেডিকেল কিটের ব্যবস্থা করার কথাও তিনি বলেন।

অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানান তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য। তিনি রাজ্য থেকে পুণ্যার্থীদের সোমনাথ মন্দির যাত্রার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তীও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.