ত্রিপুরা জুড়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতি কায়েম হয়েছে, মে মাসেই রাজ্যে চৌদ্দ জন খুন হয়েছে : সিপিএম

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জুন ১০, : সি পি আই (এম) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির একদিনের অধিবেশন ৮ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইনে রাজ্য কমিটি সদস্যরা বৈঠকে এবং আলোচনায় অংশগ্রহন করেছেন।

আলোচনায় এসেছে, রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গ্রাম-পাহাড় শহর, বিশেষ করে উপজাতি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চল গুলোতে প্রচণ্ড আর্থিক অনটন চলছে। গ্রামে প্রেসার সামান্য কাজ হলেও মজুরি বকেয়া পড়ে আছে। শাসক জোটের লোকেরা রেগার লিস্টে তাদের নাম ঢুকিয়ে শ্রমিকদের মজুরি খেয়ে নিচ্ছে। এত শোচনীয় আর্থিক সংকটে পরিবারগুলো গৃহপালিত পশু-পাখি বিক্রি করে দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। বাজারগুলো প্রায় ক্রেতা শূন্য। শহরে টুয়েপের কাজ নেই। প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক করোনার আবহে শ্রমজীবী মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। কারফিউ চলায় এবং সরকারের কোনো সাহায্য না থাকায় দৈনিক উপার্জনের ওপর নির্ভরবাসহ শ্রমজীবী মানুষ অসহায়।

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতি ঘটেছে। খুন, অস্বাভাবিক মৃত্যু, নারীদের ধর্ষণ ও গণধর্ষণ বেড়েই চলেছে। সরকারি মুখপাত্র তথ্য দিয়েছেন শুধু মে মাসেই ২৪টি খুন, ১২টি ধর্ষণ ও গণধর্ষণ, ৩৯টি অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। অনেক খুনের ঘটনা ‘আত্মহত্যা' বলে চালানো হচ্ছে।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতির পরও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সমর্থক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর ফ্যাসিস্টসুলভ আক্ৰমণ সংগঠিত হয়েছে। শান্তিরবাজারে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, উপনেতাসহ সি পি আই (এম) প্রতিনিধিদলের ওপর পুলিশের সামনেই আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পার্টি নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ, বাড়ি-ঘরে হামলা, পার্টি অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি আক্রান্ত সাংবাদিকরা, চিকিৎসকরা পর্যন্ত।

রাজ্যপালের আশ্বাসের পরও গত ৪ সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমায় আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে। কমলপুরে সরকারি নিরাপত্তা রক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে স্বয়ং মন্ত্রী কারফিউ চলার সময় প্রকাশ্যে সিপিআই (এম) অফিস জবরদখল এবং পার্টি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে ফ্যাসিস্টসুলভ আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটি ক্ষেত্রেও পুলিশ আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার করে না। কোভিড আক্রান্তদের দুঃস্থ পরিবারগুলোকে ত্রাণ বণ্টনের সময়, চিকিৎসা সহায়তা, রক্তদান শিবির আয়োজন,এলাকা স্যানিটাইজ করার সময় পর্যন্ত বি জে পি কর্মীরা বাধা দিয়েছে। আক্রমণ করে আহত করেছে। রাজ্যে আইনের শাসন সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন।

কোভিড মোকাবিলার ক্ষেত্রে উপযুক্ত কাঠামো রাজ্য সরকার এখনো গড়ে তোলেনি। চিকিৎসক, সাহ নিয়োগ করেনি। কারফিউ দিয়ে সরকার তার দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে। অনেক টক্কা নিনাদ করে যে সামান্য ত্রাণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে অল্প কিছু মানুষ তা পেয়েছেন। তাতেও দলবাজি চলছে।

তিপ্রা মথা গত ২০ এপ্রিল টি টি এ এ ডি সি’র দায়িত্ব নিয়েছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে এখনো কোন কর্মসূচি নেই দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রাথমিক উচ্চাশ ও মনোবল রক্ষার সংকীর্ণতাবাদী কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। মেয়াদ অতিক্রান্ত ভিলেজ কমিটি দখল নিয়ে তিপ্রা মথা এবং বি জে পি – আই পি এফ টি জোটের মধ্যে একাধিক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। টি টি এ এ ডি সি’র ভিলেজ ভিত্তিক মনোনীত কমিটি গঠন এবং রাজ্য সরকারের বিপরীত অবস্থান উভয়ের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করছে। সি পি আই (এম) দাবি জানিয়ে আসছে কোভিড পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে দ্রুততার সাথে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন করতে হবে।

তিনটি কৃষক বিরোধী আইন বাতিল দাবিতে এ সময়ে সংযুক্ত কিষান মোর্চা কোভিড বিধি মেনে ২৫৫টি স্থানে প্রতিবাদ সংগঠিত করেছে। বিভিন্ন গণসংগঠন তাতে তাংশ নিয়েছে। শ্রমিক যুব-ছাত্র-মহিলা, তপশিলি ও অন্যান্য সংগঠন সীমিত স্থানীয় ভাবে কয়েকটি কর্মসূচি সংগঠিত করেছে। রক্তদান শিবির আয়োজন করেছে। পার্টির পক্ষ থেকে খাদ্য, কাজ, স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবি নিয়ে ডেপুটেশন সংগঠিত করা হয়েছে।

সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটি আবারও দাবি জানাচ্ছে: কোভিড আক্রান্ত শনাক্তকরণ গণহারে করতে হবে, বিনামূল্যে সর্বজনীন টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোভিড- অকোভিড রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ, অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করতে হবে। অক্সিজেন ও অন্যান্য মেডিক্যাল সরঞ্জাম সমস্ত হাসপাতালে সরবরাহ করতে হবে।

আয়করদাতা নন এমন সমস্ত পরিবারকে প্রতিমাসে মাথাপিছু বিনামূল্যে ১০ কেজি খাদ্যশস্য সরবরাহ, পরিবারগুলোকে মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা নগদে দিতে হবে। রেগা ও টুয়েপ প্রকল্পে ব্যাপকভাবে কাজ দিতে হবে এবং নিয়মিত মজুরি দিতে হবে। মজুরি লুণ্ঠন বন্ধ করতে হবে। সর্বত্র পানীয় জল বিদ্যুৎ সরবরাহ, সেচ প্রকল্প সংস্কার, সড়কগুলো মেরামতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

অধিবেশনের শুরুতে কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেত্রী কে আর গৌরী আম্মা, সি আই টি ইউ কেন্দ্রীয় ওয়ার্কি কমিটি সদস্যা রঞ্জনা নিরুলা, সি পি আই (এম) ডুকলি মহকুমা কমিটির সদস্য ও প্রতাপগড় লোকাল কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক ডাঃ হরিপদ চক্রবর্তী, ধর্মনগরের প্রবীণ জি এম পি নেতা বীরেশ দেববর্মা, সি পি আই (এম) কুমারঘাট মহকুমা কমিটি সদস্য দশরথ দেববর্মা, রাজ্যের কৃতী সন্তান সি পি ডব্লিউ ডি’র অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য স্থপতি তাপস দেববর্মা, তার স্ত্রী প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী অরুনিমা দেববর্মার প্রয়াণে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানানো হয়।


You can post your comments below  
নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।  
বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।
 
Free Download Avro Keyboard  
Name *  
Email *  
Address  
Comments *  
 
 
Posted comments
Till now no approved comments is available.