জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে আযোজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরাকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, আগষ্ট ৩০, : রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। খেলাধুলার প্রসারের মধ্য দিয়ে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে ২৯ আগস্ট বাধারঘাটস্থিত দশরথ দেব স্টেট স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার ক্রীড়া পরিকাঠামো আজ কেবল উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই নয়, সারা দেশের মধ্যে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। রাজ্যের খেলোয়াড়দের বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার খেলাধুলাকে শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে দেখছে না, বরং যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে।
হকির জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মেজর ধ্যানচাঁদের জীবন ও ক্রীড়া সাধনার কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কৃতি খেলোয়াড় ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন ক্রীড়া পরিকাঠামোর নামকরণও করা হচ্ছে। বাধারঘাটের সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক ট্র্যাক প্রখ্যাত অ্যাথলিট দেবভক্তি জমাতিয়া-র নামে, হকি গ্রাউন্ড প্রখ্যাত কোচ স্বদেশপ্রিয় নন্দী-র নামে, খোয়াইয়ের একটি মাঠ প্রতুল ভট্টাচার্য-র নামে, পানিসাগরের সিন্থেটিক ট্র্যাক জাতীয় অ্যাথলেটিক্স কোচ ড. অরুণাভ রায়-এর নামে, ধর্মনগরের ইনডোর হল ব্যাডমিন্টন তারকা গৌরী শেখর রায়-এর নামে এবং আমবাসার স্পোর্টস হোস্টেল জিমন্যাস্ট মধুসূদন সাহা-র নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের রাজনীতি দিয়ে নয়, তাঁদের কৃতিত্ব দিয়ে বিচার করা বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিভাকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলেনও মুখ্যমন্ত্রী জানান।
আরও পড়ুন...