অমরপুর মহকুমা হাসপাতাল এ আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা ও ডিজিটালাইজেশনের উপর গুরুত্ব আরোপ : স্বাস্থ্য সচিব
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, আগষ্ট ২৪, : রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং গ্রামীণ স্তর পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে ২৩ আগস্ট অমরপুর মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন । পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের, গোমতী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কমল রিয়াং সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্য সচিব হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিগত কয়েক বছরে অমরপুর মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের নমুনা বাইরের এজেন্সির মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হলেও বর্তমানে সিংহভাগ টেস্ট হাসপাতালেই সম্পন্ন হচ্ছে। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি এবং উন্নত অপারেশন থিয়েটার-সহ মা ও শিশু চিকিৎসার আধুনিক পরিষেবা চালু রয়েছে। এছাড়া থাইরয়েড ও সিবিসি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন শীঘ্রই চালু করা হবে। পাশাপাশি, হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত ৭ জন চিকিৎসকের সঙ্গে পূর্ণকালীন অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ এবং জুনিয়র ডাক্তার বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের আবেদনটি দ্রুত মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।
অমরপুর মহকুমা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন রোগীকে উদয়পুর বা জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। স্বাস্থ্য সচিব স্পষ্ট জানান, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ও পরিকাঠামো যুক্ত করে এই রেফারেল সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনাই দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে বাড়ির কাছেই উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। অমরপুর হাসপাতালে ওটি পরিষেবা চালু রয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব শ্রী গিত্যে সব নাগরিকের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন অস্ত্রোপচার ও জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে রক্তের পর্যাপ্ত মজুত প্রয়োজন। রক্তের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে স্থানীয় ক্লাব, সামাজিক সংগঠন ও গ্রামবাসীদের নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজনের জন্য তিনি আন্তরিক আবেদন জানান।
আগরতলার সিভিল হাসপাতালের আদলে অমরপুর মহকুমা হাসপাতালেও ডিজিটাল ও পেপারলেস পরিষেবা গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। স্বাস্থ্যসেবাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং শতভাগ ডিজিটাল করতে হাসপাতালগুলোতে চালু করা হয়েছে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যাকাউন্ট (আভা কার্ড)। আগামীতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, এক্স-রে, ইউএসজি ও অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ডিসচার্জ সার্টিফিকেট সরাসরি রোগীর হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সময় ও আর্থিক সাশ্রয় হবে।
স্বাস্থ্য সচিবের পরিদর্শন শেষে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা হাসপাতালেই একটি বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কমল রিয়াং, উদয়পুর মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ বিশ্বজিত দেবনাথ সহ অন্যান্য চিকিৎসক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজারেরা। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানান, স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশ ও পরামর্শ মতো অমরপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও উন্নত করার জন্য সবরকম চেষ্টা চালানো হবে।
এছাড়া, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নবনির্মিত কোয়ার্টারগুলোর জল সংযোগের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে তা অবিলম্বে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান। পরিশেষে, ছুটির দিনেও চিকিৎসা পরিষেবায় নিয়োজিত সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিষ্ঠার প্রশংসা করেন স্বাস্থ্য সচিব। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন...