উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে রাজনীতির রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জুলাই ৩১, : বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন, জনজাতি সম্প্রদায়ের সার্বিক বিকাশ এবং মহিলাদের শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। ৩০ জুলাই খোয়াই জেলার অন্তর্গত বাইজলবাড়ি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ২৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, সমগ্র রাজ্যে উন্নয়নের ব্যাপক কর্মকান্ড চলেছে। উন্নয়নের সুফল যাতে রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষ পেতে পারেন সেই লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র চলতি অর্থবছরে ইতিমধ্যেই ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীগণ ত্রিপুরায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন। রাজ্য সরকার বিভিন্নভাবে তাদের দিকে সহযোগিতার হাতে বাড়িয়ে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে রাজনীতির রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার মানব সম্পদ উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারও শিক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সিন্থেটিক ফুটবল টার্ফ, ওপেন জিম নির্মাণের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যাতে কোনও ছাত্রী বিদ্যালয় ছুট না হয়ে পড়ে সেই লক্ষ্যে ছাত্রীদের মধ্যে সাইকেল বিতরণ করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে রাজ্যে ১ লক্ষ ২২ হাজার সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও ৪১ হাজার সাইকেল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলেজ স্তরে ছাত্রীদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে কলেজের ফি মকুব করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের উইমেন্স কলেজকে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার ঘোষণা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। জনজাতি শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আবাসিক বিদ্যালয় ও হোস্টেলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ডের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যে ২১টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বোর্ডিং হাউস নির্মাণ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছে। আন্তরিকতার সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সমস্ত অংশের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খোয়াই জেলার জেলাশাসক রজত পন্থ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, এমডিসি জেমস দেববর্মা, শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে, খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার বি. জগদীশ্বর রেড্ডি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিগণ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.