খার্চি উৎসব রাজ্যের সম্প্রীতি, ঐক্য, সংহতি এবং সামাজিক মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জুলাই ২৩, : ত্রিপুরা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তীর্থভূমি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ে তোলার ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজ্য সরকারও ত্রিপুরার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। খার্চি উৎসব সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ২২ জুলাই ঐতিহ্যবাহী খার্চি উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। পুরাতন আগরতলার চতুর্দশ দেবতা মন্দির প্রাঙ্গণে সাতদিনব্যাপী খার্চি উৎসব ও মেলা আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

খার্চি উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে খার্চি উৎসব। শতাব্দি প্রাচীন এই উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, খার্চি রাজ্যের সম্প্রীতি, ঐক্য, সংহতি এবং সামাজিক মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ভাষা, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব অংশের মানুষের অংশগ্রহণ খার্চি উৎসবের সবচেয়ে বড় শক্তি। খার্চি উৎসবকে কেন্দ্র করে পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য পানীয়জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যানবাহনের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতির আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া পর্যটন শিল্পের বিকাশে ধাপে ধাপে এই এলাকার উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলেছে। খার্চি উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যের সমৃদ্ধ লোক সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উৎসব বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছে। রাজ্যের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও খার্চি উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা দেশে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। ইতিমধ্যেই বহু ঐতিহাসিক মন্দিরের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি গুজরাটের সোমনাথ মন্দির, আসামের কামাখ্যা মন্দিরের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদয়পুরে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর উদ্বোধন করেছেন। কমলাসাগরে কসবেশ্বরী মন্দির, চতুর্দশ দেবতার মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদয়পুরে একান্ন শক্তিপীঠের রেপ্লিকা তৈরির কাজ চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এগুলির কাজ শেষ হলে ত্রিপুরা ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। সাতদিনব্যাপী খার্চি উৎসব ও মেলার সাফল্য কামনা করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর জন্য সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রিপুরা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খার্চি উৎসব ও মেলা কমিটির চেয়ারম্যান বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সাতদিনব্যাপী এই মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার উৎসব ও মেলার মূল ভাবনা এক পেড় মা কে নাম। তিনি মায়ের জন্য অন্তত একটি চারাগাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন বিনামূল্যে এক হাজার করে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক স্বপ্না দেববর্মা, পুরাতন আগরতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান ঝর্ণা রাণী দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, ত্রিপুরা পর্যটন উন্নয়ন নিগমের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, জিরানীয়া মহকুমার মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজেশ ভৌমিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা সহ অন্যান্য অতিথিগণ বিভিন্ন দপ্তরের প্রদর্শনী মন্ডপ উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.