মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরব তারেক, কিন্তু ভারতে কূটনৈতিক পদে বিতর্কিতদেরই মনোনয়ন? নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জুলাই ২১, : বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার মৌলবাদবিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে মৌলবাদের উত্থান এবং ভারতবিরোধী প্রচারণা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিল্লির প্রত্যাশা ছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে একদিকে যেমন মৌলবাদের প্রভাব কমবে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিভিন্ন জনসভা ও বক্তব্যে ধারাবাহিকভাবে মৌলবাদ ও তথাকথিত ‘গুপ্ত বাহিনী’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, “৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর একটি গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। আন্দোলনের সময় তাদের কোথাও দেখা যায়নি। নির্বাচনের পর তারা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।”

তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক ভারতে কয়েকটি কূটনৈতিক নিয়োগকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে এমন কয়েকজনকে পাঠানো হচ্ছে, যাদের অতীত অবস্থান, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাংবাদিক সাইদুর রহমান, যাকে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। সমালোচকদের দাবি, অতীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ভারতের ভূমিকা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সরকার সম্পর্কে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একইভাবে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব (প্রেস) পদে মনোনীত উম্মে মারুফা-কে নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি নির্বাচনবিরোধী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যকে উৎসাহিত করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর সুপারিশে তিনি এই মনোনয়ন পান। যদিও প্রশাসনিক কিছু কারণে তার নিয়োগ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত মৌলবাদ ও ‘গুপ্ত’ চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছেন, তখন কেন সেই অভিযোগে অভিযুক্ত বা বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশে কূটনৈতিক দায়িত্বে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

তবে উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ মূলত রাজনৈতিক মহল ও সমালোচকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়েছে।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.