পরিকাঠামোর উন্নয়ন না হলে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয় : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জুলাই ১৫, : রাজ্য সরকার সারা রাজ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছে। কারণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন না হলে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। গত অর্থবছরে সারা রাজ্যে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২১ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। রাজ্য সরকার নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি রূপায়ণ করছে। ১৪ জুলাই উদয়পুরের রাজর্ষি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি গোমতী জেলার অন্তর্গত ৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৬টি প্রকল্পের শিলান্যাস করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী আজ ৭.৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে উদয়পুর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ১.৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভগিনী নিবেদিতা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পরিকাঠামো উন্নতিকরণ, ৫.৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে রমেশ ইংলিশ মিডিয়াম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের সিন্থেটিক ফুটবল টার্ফের উদ্বোধন, ২.২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এস.ডি.এম. অফিস কমপ্লেক্সে ৬টি কর্মচারি আবাসের উদ্বোধন করেন। তাছাড়া ৪৩.১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে উদয়পুর মহকুমা হাসপাতালের চারতলা নতুন ভবন, ১৪.৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হরিয়ানন্দ ইংরেজি মাধ্যম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের দুটি অফিস বাড়ি, ৪.৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে গোমতী যাত্রীনিবাস থেকে ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক পর্যন্ত রাস্তার উন্নীতকরণ, ৩.০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রম দপ্তরের অফিস এবং ৬.৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে কাকড়াবন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল মাঠ তৈরির শিলান্যাস করেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গদর্শনে রাজ্য সরকার উন্নয়নকেই প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে চলেছে। রাজ্যের উন্নয়নই যে একমাত্র লক্ষ্য তা রাজ্যবাসী উপলব্ধি করতে পেরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিজনেস কনক্লেভের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রায় ১,২০০ বিনিয়োগকারী এই কনক্লেভে অংশ নিয়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারীই রাজ্যে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং রাজ্যের প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর জীবনমানের অনেক উন্নতি হয়েছে। নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুসারে ত্রিপুরা এখন অন্যতম ফ্রন্ট রানার রাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ৩৫০টিরও বেশি জাতীয় এবং আঞ্চলিক পুরস্কার পেয়েছে।

ইতিমধ্যেই আমাদের রাজ্য তৃতীয় পূর্ণ স্বাক্ষর রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য জনজাতি অধুষিত এলাকায় ১০০টি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রসাদ প্রকল্পে ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির এলাকায় সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই জায়গাটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি বলেন, উদয়পুরে আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ রূপায়ণে সব অংশের জনগণকে আরও আন্তরিকভাবে সামিল হতে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় বলেন, সারা রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে এবং যেসব প্রকল্প ইতিমধ্যেই রূপায়ণ করা হয়েছে তা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে উদয়পুরের যে উন্নয়ন হয়েছে তা আগে কখনও হয়নি। এই বিষয়ে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তথ্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকশিত ভারত গঠনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যেও উন্নয়নমূলক কাজের জোয়ার চলছে। তিনি বলেন, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে উদয়পুরে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য ছাত্রাবাস নির্মাণ করার কাজ চলছে। একটি ইন্ডোর হল তৈরির কাজও এগিয়ে চলেছে। তিনি রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, গোমতী জেলার এস.পি. ঋষভ, শ্রম দপ্তরের কমিশনার বিশ্বজিৎ পাল, বিশিষ্ট সমাজসেবী সবিতা নাথ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদয়পুর পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলার জেলাশাসক রিংকু লাথের। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায় ও নিরাময় ল্যাব নেটওয়ার্ক এবং ডায়ারিয়া নির্মূলীকরণ অভিযানের সূচনা করেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.