উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জুলাই ১৩, : রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষদের স্বচ্ছ ও অত্যাধুনিক কর্পোরেট ধাঁচে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে চায়। সরকার মানুষের কল্যাণে উন্নয়নমূলক যে কাজের কথা চিন্তা করে তা বাস্তবায়িত করে দেখাচ্ছে। ১২ জুলাই আগরতলা পুরনিগম এলাকার জ্যাকসন গেইট সংলগ্নে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আগরতলা সিভিল হাসপাতালের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এই সিভিল হাসপাতাল চালুর ফলে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই হাসপাতাল চালুর ফলে বিভিন্ন কাজে আগরতলার বাইরে থেকে আগত মানুষরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। এই সিভিল হাসপাতাল গড়ে তুলতে ব্যয় হয়েছে ২০.৩৭ কোটি টাকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মহারাণী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিন্তাধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজ রাজনৈতিক স্বার্থে নয় মানুষের কল্যাণে রূপয়িত হয়। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন সরকার শুধু শহরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, মহকুমাগুলিতেও অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। এডিসি এলাকাতেও নতুন নতুন হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই গড়ে তোলা হবে ট্রমা সেন্টার। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য রাজ্যের ১৯টি পুর এলাকাতেও একটি করে অত্যাধুনিক সিভিল হাসপাতাল গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন অধিকাংশ চিকিৎসাই ত্রিপুরাতে সম্ভব হচ্ছে। রাজ্যের যে কোনও রোগীই টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দিল্লি এইমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন। তাছাড়াও রাজ্যে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি কলেজ গড়ে তোলা হচ্ছে।
এছাড়া ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিজা গ্রুপ একটি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তুলবে। তাছাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচিতে দেশের অনেক বড় রাজ্য থেকে ত্রিপুরা অনেকটা এগিয়ে। টিকাকরণ ও আরবিএসকে সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ত্রিপুরা বিশেষ সাফল্য লাভ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে প্রতিটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি স্বচ্ছ ও সুন্দর করে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, ক্লাব, বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা এবং এলাকার জনগণকে দায়িত্ব নিতে হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সরকার রাজ্যকে সম্পূর্ণভাবে নেশামুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি জেলায় নেশামুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ত্রিপুরাকে সম্পূর্ণ নেশামুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় অত্যাধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ এ ধরনের অত্যাধুনিক হাসপাতাল উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথম। এর পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সবাইকে মিলেই নিতে হবে। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ.। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের সেন্ট্রাল জোনের জোনাল চেয়ারপার্সন রত্না দত্ত।
আরও পড়ুন...