রাজ্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের মানুষের যেন বহির্রাজ্যে যেতে না হয় : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জুলাই ১১, : রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বৃহত্তর অংশের জনসাধারণের স্বার্থে স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ সমস্ত সরকারি পরিষেবা সহজলভ্য করে তোলা। রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ করে তুলছে। এই কাজে অনেকটাই সাফল্য এসেছে। সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের মানুষের যেন বহির্রাজ্যে যেতে না হয়। ১০ জুলাই আগরতলা-সাক্রম জাতীয় সড়কের পাশে আমতলি এলাকার বাগমারায় বেসরকারি ‘টাইম' হাসপাতালের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। রাজ্যে বিভিন্ন শিল্প গোষ্ঠীর বিনিয়োগের পাশাপাশি অনেক সংস্থা বেসরকারি স্তরে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবায় বিনিয়োগেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ‘টাইম' হাসপাতালটি গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বেসরকারি স্তরে শিজা হাসপাতাল গড়ে উঠবে। বেসরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। সরকারি স্তরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি স্তরেও রাজ্যের জেলাগুলিতে হাসপাতাল গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার গুরুত্ব আরোপ করেছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলি যেন উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিতে পারে সে ব্যাপারে রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্য সরকার এডিসি এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। অতীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে বিভিন্ন রোগের টিকাকরণ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। বর্তমানে স্বাস্থ্য দপ্তর বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে বলেই আজ রাজ্যে টিকাকরণ সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সফলতা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় রাজ্যের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এই যোজনায় ৩০৭ কোটি টাকা চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে জনগণ উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য অভিযানে রাজ্যের জনগণ বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি এটা মনে রাখা দরকার রোগের প্রতিকার থেকে রোগ প্রতিরোধই শ্রেষ্ঠ। সেজন্য প্রত্যেক মানুষের উচিত স্বাস্থ্য সচেতনতা অবলম্বন করে জীবন যাপন করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বিকশিত ভারত গড়ার জন্য বিকশিত রাজ্য গড়ে তোলা দরকার। রাজ্য সরকার সেই দিশায় কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী নতুন হাসপাতালটির বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘টাইম' হাসপাতালের চেয়ারম্যান জয়ন্ত কুমার রায়। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ‘টাইম’ হাসপাতালের কনক নারায়ণ ভট্টাচার্য্য। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধিকর্তা ডা. চেতন গিনগেরি প্রমুখ।
আরও পড়ুন...