স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিষেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করার কাজে রাজ্য সরকার কোনও ধরনের আপোষ করতে চায় না : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জুলাই ৮, : নাগরিকদের সব ধরনের মৌলিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আগরতলা পুরনিগম এলাকায় আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলে বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করার কাজ করছে আগরতলা পুরনিগম। স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিষেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করার কাজে রাজ্য সরকার কোনও ধরনের আপোষ করতে চায় না। ৭ জুলাই আগরতলার বড়দোয়ালিস্থিত পুরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্মিত ওয়ার্ড কার্যালয়ের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা রূপায়ণের মাধ্যমে ২০১৯ সালের পর থেকে আগরতলা পুরনিগম এলাকায় বিরাট পরিবর্তন এসেছে। অতীতে পুর নিগম এলাকায় সরকারি উদাসীনতায় অনেক জলাশয় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। রাস্তার জায়গা দখল হয়ে গিয়েছিল। তাতে পুরনিগম এলাকায় পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। গত কয়েক বছরে বর্তমান রাজ্য সরকার এবং পুরনিগম সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে আগরতলা শহরের উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, পুরনিগম এলাকায় ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয় করে ২৪টি জলাশয়ের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। পুরনিগমের যে সব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয়জলের সুবন্দোবস্ত ছিল না সেসব এলাকায় বর্তমানে বাড়ি বাড়ি পানীয়জলের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। শহর ও নগর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সুবিধার জন্য টাউনশিপ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৪৮টি ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে। লাইট হাউস প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ১,২৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৯,৮৭৮টি ঘর দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭৬ হাজারের বেশি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-আরবান ২.০-এর মাধ্যমে আরও ৪,৩০০ ঘর দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা শহরকে আধুনিক স্মার্টসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে স্মার্ট সিটি মিশনের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। প্রকল্প রূপায়ণে ব্যয় হবে ৫৮১ কোটি টাকা। বর্ষার জমা জল নিষ্কাশনের জন্য আগরতলা পুরনিগম এলাকায় আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করাই নয়, পুর এলাকাগুলিতে বিকল্প কর্মসংস্থানেও রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ত্রিপুরা আরবান লাইভলিহুড মিশনের মাধ্যমে ৬,৭২৫টি স্বসহায়ক দল গঠন করা হয়েছে। টুয়েপ প্রকল্পে অর্থবরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগরতলা পুরনিগম সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় স্বচ্ছতা রক্ষার কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বিভিন্ন সহায়তা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য মানুষ যেন কোনও অবস্থাতেই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন। রাজ্য সরকার এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। রাজ্যের উন্নয়নে সবাইকে সামিল হতে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে কার্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে। জল নিকাশি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার জন্য বিভিন্ন স্থানে পাম্প মেশিন বসানো হয়েছে। তাতে ইতিমধ্যেই সাফল্য পাওয়া গেছে। তিনি আগরতলা পুরনিগম এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ণ এবং ভবিষ্যতে যে সব প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে তা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, পুরনিগমের সাউথ জোনের চেয়ারম্যান অভিজিৎ মল্লিক, আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ.। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কর্পোরেটর সম্পা সরকার চৌধুরী। পুরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন কার্যালয় নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন...