আগরতলায় অনুষ্ঠিত শিশু কিশোরদের নিয়ে ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ‘অঙ্কুর: আগামীর মহীরুহ’
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জুলাই ৬, : রাজধানী আগরতলার সুকান্ত একাডেমীতে গত ৪ঠা জুলাই, শনিবার, স্বামী বিবেকানন্দের তিরোধান দিবসে 'জগৎ প্রতিভালয়' এবং 'আমাদের কফিহাউস'-এর যৌথ উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত হল এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা— *"অঙ্কুর: আগামীর মহীরুহ"*।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশুদের হাত ধরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর বিবেকানন্দ শিশু নিকেতন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৃপ্ত কণ্ঠে ধ্বনিত স্বামীজীর স্তব ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। ভারতের যুবসমাজের প্রাণপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বিশেষ আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক বিপাশা চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানের সম্মাননা পর্বের শুরুতে উভয় আয়োজকের পক্ষে সকলকে স্বাগত জানান অনুষ্ঠানের মুখ্য আহবায়ক শিবানী ভট্টাচার্য। তিনি ত্রিপুরার রাজপন্ডিত জ্ঞানতাপস চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদ ভট্টাচার্য্য এবং দীনবন্ধু আচার্যের স্মৃতিচারণা করে এক সমৃদ্ধ আলোচনা করেন।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী। জগৎ প্রতিভালয়ের কর্ণধার শিবানী ভট্টাচার্য তাঁর হাতে *"ত্রিপুরার রাজপন্ডিত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদ ভট্টাচার্য্য স্মৃতি সাহিত্য সম্মান"* তুলে দেন। একইসাথে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয় রাজ্যের সৃজনশীল জগতের আরও বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে— লেখিকা নিয়তী রায়বর্মন, প্রাবন্ধিক ড. আশিস কুমার বৈদ্য, শিক্ষাবিদ স্বপ্না সোম, কবি ড. সংগীতা দেওয়ানজী, শিক্ষাবিদ ড. বিথিকা চৌধুরী, সঙ্গীতগুরু স্বর্নিমা রায়, সঙ্গীতশিল্পী মনীলা সাহা ভৌমিক এবং রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুব্রত দেবনাথ। শিশুশিল্পী হিসেবে সম্মানিত হয় ময়াঙ্ক ভৌমিক এবং *"জগদীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার"* পান পৃথ্বীরাজ দেবনাথ।
আমাদের কফিহাউসের পক্ষ থেকে এই বছর *"দীনবন্ধু আচার্য স্মৃতি সাহিত্য সম্মান ২০২৬"* গ্রহণ করেন বিশিষ্ট গল্পকার ও শিক্ষাবিদ গৌরী বর্মণ। *"সাহিত্য-সাথী সম্মান ২০২৬"*-এ সম্মানিত হন কবি ও সমাজসেবী শকুন্তলা আচার্য্য। নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে *"নবীন সেরা পাঠক ২০২৬"* সম্মানে ভূষিত হন গণিত শিক্ষক ও গবেষক দেবতোষ চক্রবর্তী। তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন কবি বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী এবং নাট্যকার সুধীন দাশগুপ্ত।
এই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রেক্ষাগৃহে একাধিক অসামান্য সৃষ্টিশীল পরিবেশনা উপস্থাপিত হয়। সৃষ্টি চিত্রকলা একাডেমীর শিক্ষার্থীদের বাদ্যযন্ত্রের উপস্থাপনা এবং সরস্বতী সংস্কৃতি অঙ্গনের শিশুশিল্পীদের রবীন্দ্র-নজরুল গীতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিভিন্ন সামাজিক ও আধ্যাত্মিক বার্তা দিয়ে অভিনব নৃত্য ও নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে গরিমা নৃত্যরূপ ডান্স একাডেমী ও কলাকুঞ্জ কালচারাল একাডেমীর শিক্ষার্থীরা। উদীয়মান বেহালাবাদক শ্রুতর্ষি পাল মনমুগ্ধকর বেহালা পরিবেশন করেন। অপূর্ব সঙ্গীত পরিবেশন করেন সঙ্গীতশিল্পী নীহারিকা দাস ও ময়াঙ্ক ভৌমিক। এছাড়াও আবৃত্তি পরিবেশন করে শিশুশিল্পী আরভ রায়বর্মন, কবি অনির্বাণ দেবনাথ, বাচিকশিল্পী অনিকেত চক্রবর্তী এবং নয়ন দে।
আয়োজনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল লাইভ ক্যানভাস; যেখানে চিত্রশিল্পী দীপক দাসের তুলির টানে মঞ্চেই ফুটে ওঠে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন্ত প্রতিকৃতি। অনুষ্ঠানে আমাদের কফিহাউস আয়োজিত আগরতলা বইমেলার ‘বসে আঁকো প্রতিযোগিতা’র বিজয়ী শিক্ষালয় আর্ট এন্ড ক্রাফ্ট ও সৃষ্টি চিত্রকলা একাডেমীর শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির সাবলীল সঞ্চালনায় ছিলেন উদীয়মান সঞ্চালক শিবাগ্নী ভট্টাচার্য্য এবং পরিণীতা দেবনাথ। রাজধানীর বুকে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে আপ্লুত দর্শকরা জানান, মহীরুহের সমারোহে সত্যিই যেন অঙ্কুরিত হলো আগামী দিনের মহীরুহরা। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে এ ধরনের গঠনমূলক আয়োজন আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহ্বায়ক তথা আমাদের কফিহাউসের কর্ণধার পলাশ আচার্য।
আরও পড়ুন...