চুড়াইবাড়ি থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত ১৩০ কিমি জাতীয় সড়ককে চার লেন করার জন্য এলাইনমেন্ট-এর অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জুলাই ২, : ত্রিপুরায় জাতীয় সড়কগুলির উন্নয়নের বিষয়ে ১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের মন্ত্রী নীতিন গড়করির সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় চলতি প্রকল্পগুলির কাজ ত্বরান্বিত করা হবে, জাতীয় সড়কগুলির উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং রাজ্যের মধ্যে ও অন্যান্য রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরায় জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্ককে ১৯৮ কিমি (২০১৪ সালে) থেকে সম্প্রসারিত করে ৯২৩ কিমি (২০২৬ সালে) করায় এবং আগরতলা রিং রোড-এর অনুমোদন দেওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে
ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সময়মত শেষ করার জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের সাথে পরামর্শক্রমে চুড়াইবাড়ি থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত ১৩০ কিমি জাতীয় সড়ককে চার লেন করার জন্য এলাইনমেন্ট-এর অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক। রেলপথের পাশাপাশি চলবে গ্রিনফিল্ড চার লেন জাতীয় সড়ক। এরজন্য আঠারমুড়া ও লংতরাই এলাকায় টানেল করা হবে। শীঘ্রই একাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ শুরু হবে। রাজ্য সরকারকে রাণীরবাজার থেকে চন্দ্রপুর আই.এস.বি.টি. পর্যন্ত জাতীয় সড়ককে চার লেন করার জন্য ৯০ শতাংশ জমি হস্তান্তর করতে হবে এবং এবছর আগস্ট মাসের মধ্যে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সুবিধার সম্প্রসারণ করতে হবে। তারপরই এনএইচআইডিসিএল দরপত্র আহ্বান করবে।
আগরতলা থেকে উদয়পুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য ডিপিআর তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এবছর আগস্ট মাসের মধ্যে রাস্তার এলাইনমেন্ট সম্পন্ন হবে এবং তারপর শুরু হবে জমি অধিগ্রহণ। ৮ নং জাতীয় সড়ক ও ২০৮ নং জাতীয় সড়ক সংযোগকারী উদয়পুর থেকে অমরপুর সড়কের (২৪ কিমি) ডিপিআর তৈরিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সড়ককেও জাতীয় সড়কের মত করেই নির্মাণ করা হবে। কেননা এই সড়ক উদয়পুর (ত্রিপুরাসুন্দরী), ছবিমুড়া, ডম্বুর লেকের মত পর্যটন স্থানগুলির সাথে সংযোগ তৈরি করেছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কমলপুর-আমবাসা-গণ্ডাছড়া-শান্তিরবাজার (১৪৮ কিমি) সড়কের উন্নয়নও হাতে নেওয়া হবে এর পর্যটন, বাণিজ্য ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন সংক্রান্ত সম্ভাবনাকে বিবেচনা করে। আগরতলা শহরের ওয়েস্টার্ন বাইপাস (২৫ কিমি) নির্মাণের জন্য সার্ভিস লেনের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এলাইনমেন্ট ও জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে লেম্বুছড়া থেকে খয়েরপুর (১০ কিমি) ইস্টার্ন বাইপাসের কাজ হাতে নেওয়া হবে।
আগরতলা থেকে খোয়াই এনএইচ ১০৮-বি., কুমারঘাট থেকে কৈলাসহর এবং কৈলাসহর থেকে খোয়াই (এন.এইচ.২০৮) এবং কৈলাসহর থেকে কুর্তি ব্রিজ (এন.এইচ.২০৮-এ) সড়কের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা বিবেচনা করে এটা সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সেন্ট্রাল রোড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সুপারিশ অনুযায়ী এই অংশের পুনর্নির্মাণ করা হবে। কুর্তি ব্রিজ থেকে চাঁদখিরা পর্যন্ত (এন.এইচ.২০৮-এ) সড়ককে ৭ মিটার থেকে ১০ মিটার প্রশস্ত করার জন্য আসাম সরকারের সাথে আলোচনা চলছে। রাজ্য সরকার সমস্ত প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ, বন দপ্তরের অনুমোদন ও পরিকাঠামোগত সুবিধাগুলির স্থানান্তরণ সময়মত করার আশ্বাস দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় সড়কের পাশে ড্রেন ও রিটেইনিং ওয়ালের ব্যবস্থা রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে রাস্তা সংলগ্ন বসতিগুলি প্লাবিত না হয় এবং পাহাড়ি এলাকায় বর্ষার সময় ভূমিধ্বসের ঘটনা না ঘটে।
এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক, পরিবহণ মন্ত্রকের সচিব ভি. উমাশংকর, পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, এনএইচআইডিসিএল-এর এম.ডি., পূর্ত দপ্তরের (জাতীয় সড়ক) মুখ্য বাস্তুকার সুব্রত বণিক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আধিকারিকগণ।
আরও পড়ুন...