কৃষির উন্নয়ন ছাড়া রাজ্য বা দেশের উন্নয়ন কোন ভাবেই সম্ভব নয় : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জুন ২৭, : গ্রামীণ এলাকার অগ্রগতির মূল ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। কৃষির উন্নয়ন ছাড়া রাজ্য বা দেশের উন্নয়ন কোন ভাবেই সম্ভব নয়। ২৬ জুন মোহনপুর মহকুমার বামুটিয়া ব্লকের অন্তর্গত বেড়িমুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলে ক্ষেত বাঁচাও অভিযান এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষের উপর একদিনের কর্মশালার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর ফলশ্রুতিতে দেশ আজ কৃষি ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট শ্রম শক্তির ৬০ শতাংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন কল্পনাও করা যায় না। তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষিক্ষেত্রে রাসায়ণিক সারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ক্রমেই সমস্যার সৃষ্টি করছে। এর ফলে মাটির উর্বরতা কমে আসছে এবং ফসলের উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ছে। বেশি পরিমাণে সার ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ জলও দূষিত হয়ে পড়ছে। পরিবেশের ভারসাম্যের উপরও এর প্রভাব পড়ছে। এসব দিক দিয়ে চিন্তা করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ক্ষেত বাঁচাও অভিযান ১ জুন থেকে সমগ্র দেশে শুরু হয়েছে এবং তা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। এই কর্মসূচির অন্যতম শ্লোগান হচ্ছে 'মাটি বাঁচান, কৃষি বাঁচান এবং কৃষক বাঁচান'। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে রাসায়ণিক সারের কম ব্যবহার করে প্রাকৃতিকভাবে কৃষি কাজ করা। এতে করে জমির উর্বরতা বজায় থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সয়েল কার্ড, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি ইত্যাদি সরকারি বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌছে যাচ্ছে। প্রতি ঘরে সুশাসন কর্মসূচির মাধ্যমেও এই প্রকল্পগুলির সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পগুলি নিয়ে যত বেশি জনসচেতনতা তৈরী করা হবে তত বেশি কৃষকরা উপকৃত হবেন। ২০৪৭সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তা পূরণ করার লক্ষ্যে এই সমস্ত প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। উন্নতমানের বীজ ব্যবহার করে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি কাজের মাধ্যমে কৃষকরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি ক্ষেত্রের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। রাজ্যে এখন ব্যাপক পরিমাণে ফুলের চাষও হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের পশ্চিম জেলা কার্যালয়ের উপ অধিকর্তা সঞ্জীব দেববর্মা। সভাপতিত্ব করেন বামুটিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপক কুমার সিনহা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, বিধায়ক নয়ন সরকার, প্রাক্তন মন্ত্রী প্রকাশ দাস, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস, আইসিএআর'র আইএমসি সদস্য প্রদীপ বরণ রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সয়েল হেলথ কার্ড, বিভিন্ন ফলের চারা এবং কৃষি যন্ত্রপাতি বেনিফিসিয়ারিদের হাতে তুলে দেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.