রাজ্যে কন্যা সন্তানদের শিক্ষা ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে সাইকেল বিতরণ সহ নানা কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জুন ১৬, : কন্যা সন্তানদের উন্নয়ন মানে পরিবারের উন্নয়ন। পরিবারের উন্নয়ন হলে সমাজেরও উন্নয়ন হয়। আর সমাজের উন্নয়ন হলে রাজ্যের ও দেশের উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম লক্ষ্য ও কাজ হলো দেশের কন্যা সন্তান ও মহিলাদের শিক্ষা, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা সহ সমাজের প্রতিস্তরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই বলেন মহিলাদের উন্নয়ন না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহিলাদের সংরক্ষণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ১৫ জুন আগরতলার শিশু বিহার স্কুলে ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে কন্যা সন্তানদের শিক্ষা ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে সাইকেল বিতরণ সহ নানা কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে। এই সব কর্মসূচি রূপায়ণের ফলে রাজ্যে কন্যা সন্তানদের মধ্যে ড্রপ আউটের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। রাজ্যে কন্যা সন্তানদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা পেলে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটে এবং তারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে সাফল্য পায়। এজন্যই রাজ্য সরকার কন্যা সন্তানদের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটা সময় দেশের কন্যা সন্তান ও মহিলারা অবহেলিত ছিল। তাদের অগ্রগতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও কর্মসূচি রূপায়ণ সহ মহিলাদের সমাজের নানা অধিকার অর্জনের মাধ্যমে তাদের স্বশক্তিকরণের প্রতি জোর দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর দিশায় রাজ্য সরকারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে মহিলাদের উন্নয়নে কাজ করে চলছে। কন্যা সন্তানদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে সাইকেল, স্কুটি সহ নানা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ১ হাজার ৭২৭টি বিদ্যালয়ে গুণগত শিক্ষাদানের পাশাপাশি মেয়েদের নানা আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সহ নানা কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে। মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে নতুন নতুন মহাবিদ্যালয় সহ বিভিন্ন আবাসিক হোস্টেল গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া জিবি হাসপাতালে শিশু ও মায়েদের জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক বিশেষ ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজ্য সরকার মহিলাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন মার্কেট স্টল বন্টনের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ স্টল বরাদ্দ করছে।

সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক মানসিক বিকাশে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রতিটি শ্রেণি কক্ষকে স্মার্ট ক্লাস হিসাবে গড়ে তুলতে তিনি পরামর্শ দেন। গুণগত শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তোলা। এই কাজে তিনি সবার সহযোগিতার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২০২৩-২4 3 2024-25 অর্থবর্ষে নবম শ্রেণিতে পাঠরতা রাজ্যের মোট ৪১ হাজার ৮০০ জন ছাত্রীকে বাইসাইকেল দেওয়া হবে। এতে ব্যয় হবে ২০ কোটি টাকা।

আজ বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১২টি বিদ্যালয়ের ১২ জন ছাত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী বাইসাইকেল তুলে দেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো কন্যা সন্তানদের শিক্ষার প্রসার ও নারী ক্ষমতায়ন। সরকার সেই দিশায় কাজ করে চলেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে। সম্মানীয় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অসীম সাহা, প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা হর্ষিতা বিশ্বাস এবং ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.