আগরতলা পুর নিগমের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৯৭৫৯১.০২ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব শহর গঠনে জোর
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জুন ২, : আগরতলা পুর নিগম ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৯৭৫ কোটি ৯১ লক্ষ ২ হাজার টাকার বাজেট পেশ করেছে। স্বচ্ছ, নির্মল, যানজট মুক্ত এবং আধুনিক আগরতলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবারের বাজেট তৈরী করা হয়েছে। ১ জুন আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ সংবাদ জানান আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, বিভিন্ন জোনের চেয়ারম্যানগণ, এমআইসি সদস্য, অতিরিক্ত পুরকমিশনার সহ নিগমের অন্যান্য আধিকারিকগণ।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র জানান, বাজেট অনুযায়ী মোট প্রাপ্তির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯৭৪ কোটি ৯৩ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং মোট ব্যয় ৯৭৫ কোটি ৯১ লক্ষ ২ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ৯৭ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে। নাগরিকদের উপর কোনও নতুন করের বোঝা না চাপিয়েই এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৮৩৬ কোটি ৪৫ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা মূলধনী খাতে ব্যয় করা হবে। নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘স্বয়ংসিদ্ধ আগরতলা’ উদ্যোগের মাধ্যমে ৮০ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জিআইএস-ভিত্তিক প্রপার্টি ট্যাক্স ব্যবস্থা, অনলাইন বিল্ডিং পারমিশন এবং বিশেষ টাস্ক ফোর্সের নজরদারি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ই-বাজেটিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে পুর প্রশাসন ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। শহরকে জলাবদ্ধতা ও বন্যামুক্ত করতে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শকুন্তলা রোড, সৎসঙ্গ আশ্রম-কৃষ্ণনগর এবং রামনগর এলাকায় আধুনিক পাম্প হাউস নির্মাণে ২৭ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া কাটাখাল পুনরুজ্জীবনের জন্য ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শহর গঠনের লক্ষ্যে ‘মশামুক্ত আগরতলা' কর্মসূচির জন্য ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা এবং সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট খাতে ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, যানজট নিরসনে নতুন পার্কিং জোন এবং মাল্টিলেভেল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেন্ডারদের জন্য বিকল্প ভেন্ডিং জোন তৈরী করারও পরিকল্পনা রয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। পুরাতন মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় ২৮৮টি গাড়ি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিলেভেল কার পার্কিং প্রকল্পের- কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া হাওড়া ডেভেলপমেন্ট পার্ক ও টিআরটিসির পুরনো জায়গাতেও বৃহৎ পার্কিং জোন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেয়র জানান, বাজেটে ১৬৮ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একাধিক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাল্টিস্টোরিড মল ও পার্কিং কমপ্লেক্স, ১২ কোটি টাকায় নেতাজি সুভাষ প্লে গ্রাউন্ডের উন্নয়ন, ১০ কোটি টাকায় ফুটপাত সংস্কার এবং রামনগর ও বটতলা এলাকায় সিসি রোড ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথমবারের মতো আগরতলা পুর নিগম ১০০ কোটি টাকার মিউনিসিপ্যাল বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই অর্থে মহারাজগঞ্জ, লেক চৌমুহনী, জিবি ও বর্ডার গোলচক্কর বাজারকে আধুনিক বাজারে রূপান্তর করা হবে। শহরের স্বল্পআয়ী এবং গরীব অংশের জনগনের সুবিধার্থে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বিয়ে বাড়ি তৈরী করার প্রস্তাবও বাজেটে রয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় ১৬৭ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় ১৯ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ২০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন জল শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। এর ফলে ৬,৫০০-র বেশি পরিবার নতুন পানীয় জল সংযোগের সুবিধা পাবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে আগরতলা সিভিল হাসপাতালকে রাজ্যের প্রথম ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ‘পেপারলেস’ আধুনিক সিভিল হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেখানে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, আধুনিক ল্যাবরেটরি, অপারেশন থিয়েটার, জরুরি বিভাগ এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হবে।
নারী সুরক্ষা ও নাগরিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ‘পিংক টয়লেট' নির্মাণ এবং নতুন ৯টি আধুনিক ওয়ার্ড অফিস নির্মানের পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বাজেট আগরতলা শহরকে আধুনিক স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের একটি সুপরিকল্পিত উন্নয়নের নকশা বলে সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন...