রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে মেগা ক্রেডিট আউটরিচ প্রোগ্রামে ১০,১৬২টি অ্যাকাউন্টে ৪১৯ কোটি টাকার ঋণের মঞ্জুরিপত্র প্রদান
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, মে ২৭, : আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির লিড ব্যাংক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এর উদ্যোগে একটি মেগা ‘ক্রেডিট আউটরিচ প্রোগ্রাম' অনুষ্ঠিত হয়। এটি রাজ্যের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগের (DFS) সচিব এম. নাগরাজু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, পি.এন.বি.-র কার্যনির্বাহী পরিচালক এম. পরমশিবম এবং নাবার্ড, এস.বি.আই. ও ইউকো ব্যাংক সহ বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকগুলির শীর্ষ আধিকারিকগণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও খাতের অধীনে ১০,১৬২টি অ্যাকাউন্টে মোট ৪১৯ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ঋণের মঞ্জুরিপত্র প্রদান করা হয়। এই লোন গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, রিটেইল লোন, মুদ্রা যোজনা, পিএম স্বনিধি, পিএমইজিপি, পিএম বিশ্বকর্মা, অন্যান্য এমএসএমই, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC - ফসল), কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC – পশুপালন ও মৎস্য) এসএইচজি, জেএলজি, অন্যান্য লোন। ঋণ বিতরণের পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) এবং নাবার্ডের পক্ষ থেকে গ্রামীণ উন্নয়নে ও রাজ্যবাসীর স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে পিএনবি ও ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিএমও (CMO)-কে ১টি করে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের আধুনিকীকরণ ও জীবনদায়ী যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) সিএসআর তহবিল থেকে ৩৬.২৮ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ইউকো ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ২৪.৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিএমও-র জন্য আরও ১টি অ্যাম্বুলেন্সের মঞ্জুরিপত্র দেওয়া হয়। গ্রামীণ যুবকদের প্লাস্টিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সিআইপিইটি (CIPET)-কে নাবার্ড (NABARD)-এর পক্ষ থেকে ১৫.০৬ লক্ষ টাকার অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে।
তাছাড়া এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিগণ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বোতাম টিপে, ঊনকোটি জেলার পেঁচারথলে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের একটি নতুন এটিএম এবং শান্তিবাজারে ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি নতুন শাখার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করা হয়। একই সাথে স্টেট ব্যাংকের সিএসপি (CSP)-রও ভার্চুয়াল সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রাজ্যের সেরা পারফর্মিং বিডিও (BDO)-দের কাজের জন্য সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা তথা উদ্বোধক কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগের (DFS) সচিব এম. নাগরাজু বলেন, এই বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ ত্রিপুরার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া আমাদের দেশে চলমান বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারি জনকল্যাণমুখী স্কিম, বিমা, পেনশন এবং ক্রেডিট লোন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য সচিব জে কে সিনহা বলেন, আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে ত্রিপুরায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অধীনে কোটি কোটি টাকা ঋণ ও অনুদান হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। একই সাথে রাজ্যের সুদূর প্রান্তিক এলাকাগুলোতে ব্যাংকের নতুন শাখা, সিএসপি এবং এটিএম পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়েছে। এই মেগা কর্মসূচির ফলে ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেমন সরাসরি উপকৃত হবেন, তেমনই রাজ্যের ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ক্ষেত্রে এক যুগান্তরকামি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন পারভীন গোয়েল, সিজিএম (এফআই), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক।
এছাড়াও এদিন সকালে উদয়পুরের রাজর্ষি হলে অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের ৪,৫৭৭ জন গ্রাহকের মধ্যে ১০৫.৪০ কোটি টাকার ঋণের মঞ্জুরিপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগের সচিব এম. নাগারাজু, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সি.জি.এম. পারভিন গোয়েল প্রমুখ।
আরও পড়ুন...