ভার্চুয়ালি কথা বলে ধলাই জেলার ৩৫ জনের নানা সমস্যার সমাধান করলেন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, মে ২১, : সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি এবং দ্রুত বিভিন্ন ধরনের সাহায্য, সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সমস্যা সমাধান করার অন্যতম পদক্ষেপ হলো মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচি। ২০ মে টি.আই.এফ.টি.-তে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৬৬তম পর্বে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ধলাই জেলার ৩৫ জনের চিকিৎসা সংক্রান্ত সহ নানা সমস্যার কথা শুনেন এবং তাৎক্ষণিক তাদের সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। ২০ মে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন জেলার মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য এই নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, ধলাই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনজাতি পরিবারের ৩০ জন দুঃস্থ মানুষের চিকিৎসার সাহায্য সহ নানা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে। রাজ্য সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জাতি, জনজাতি অংশের মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বদ্ধপরিকর।

আজ মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির ৬৬তম পর্বে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ধলাই জেলার জেলাশাসক কার্যালয়ে এই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাহায্য প্রার্থীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা শুনেন। তিনি সাথে সাথে ধলাই জেলার জেলাশাসক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির জেলাস্তর ও রাজ্যস্তরের আধিকারিকদের দ্রুত সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন। ধলাই জেলার দূরবর্তী ডম্বুরনগর ব্লকের মাখন্তি রিয়াং তার জটিল রোগের চিকিৎসার সহায়তার আবেদন জানান।

মুখ্যমন্ত্রী তার কথা শুনে ধলাই জেলার জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। এছাড়াও দূরবর্তী রইস্যাবাড়ি ব্লক এলাকার অত্যন্ত গরিব ঘরের ধন্যজয় ত্রিপুরা তার প্যারালাইসিস রোগের জন্য সহায়তার আবেদন জানান। তাছাড়াও ছামনু ব্লকের রাজধর ভিলেজের রবি কুমার ত্রিপুরা তার দিব্যাঙ্গ ভাতার আবেদন জানান। গঙ্গানগর ব্লক, সালেমা ব্লক, রইস্যাবাড়ি ব্লক, মনু ব্লক, ছামনু ব্লক, ডম্বুরনগর ব্লক, আমবাসা ব্লক, দুর্গাচৌমুহনি ব্লক, কমলপুর নগর পঞ্চায়েত ও আমবাসা পুরপরিষদ এলাকার অপর্ণা ঘোষ, শ্যামসুন্দর দে, নবলক্ষ্মী দেববর্মা, লেকিং ত্রিপুরা, জয়মালতি ত্রিপুরা সহ আরও ২৪ জন ভার্চুয়ালি নানা সমস্যার সাহায্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী কাছে আবেদন জানান। সাহায্যগুলির মধ্যে জটিল রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত সাহায্য, এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যা, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির জন্য সহায়তা, রেগার কাজের আবেদন, ঘর ও জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সহ বিভিন্ন ভাতার আবেদন রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে ধলাই জেলার জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন। গঙ্গানগর ব্লকের রমনজয় রিয়াং তার রাবার বাগান সম্পূর্ণ আগুনে পুড়ে যাওয়াতে সাহায্যের আবেদন জানান। এছাড়া দুর্গাচৌমুহনি ব্লকের কাঞ্চনবালা দাস দুর্গাচৌমুহনি ব্লক এলাকার মানুষের সুবিধার্থে একটি সি.ডি.পি.ও. কার্যালয় স্থাপনের আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা শুনে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। দুর্গাচৌমুহনি ব্লকের মরাছড়া গ্রামের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেধাবী ছাত্রী আইন বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সহায়তার আবেদন জানান। সে ৯০.২ শতাংশ নম্বর নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রীটির কথা শুনে উচ্চশিক্ষার জন্য সবধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন। ধলাই ছাড়াও সরাসরি উপস্থিত থেকে পশ্চিম জেলার দু'জন সাহায্য প্রার্থী তাদের চিকিৎসা সহ নানা সমস্যা সমাধানের আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা শুনে সাহায্যের আশ্বাস দেন এবং সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, কৃষি দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস, মুখ্যমন্ত্রীর অতিরিক্ত সচিব সমিত রায়চৌধুরী। এছাড়াও স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, আগরতলা স্মার্টসিটি লিমিটেড-এর সি.ই.ও. জি.এস. নায়েক, জিবি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার, অটলবিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ও অন্যান্য আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির ভার্চুয়ালি পর্বে আমবাসায় জেলাশাসকের অফিসের কনফারেন্স হলে উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলার জেলাশাসক বিবেক এইচ. বি. এবং ধলাই জেলার বিভিন্ন দপ্তরের জেলাস্তরের আধিকারিকগণ।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.