১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমি জলসেচ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, মে ১৭, : পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রকে সংস্কার করা দরকার। রাজ্য সরকার বাস্তবের সাথে তাল মিলিয়ে সংস্কারমূলক কাজ করে যাচ্ছে। কাজের সাথে উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখেছে। স্টেট ডাটা সেন্টার স্থাপনের ফলে রাজ্যের কৃষি জমিতে জলসেচ ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা নেবে। কোনও রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধির সাথে সেই রাজ্যের কৃষি উৎপাদনও জড়িত রয়েছে। এই ডাটা সেন্টার স্থাপনের ফলে রাজ্যে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জিডিপিও বৃদ্ধি পাবে। ১৬ মে কুঞ্জবনস্থিত বিশ্বেশ্বরায় কমপ্লেক্সে পূর্ত দপ্তরের জলসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্টেট ডাটা সেন্টারের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ডাটা সেন্টার স্থাপন রাজ্যের জন্য এক মাইলফলক। এই ডাটা সেন্টারের সঠিক তথ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য জ্ঞান বৃদ্ধির সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তিকেও যুক্ত করা। সেই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারও প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে ত্রিস্তরীয় ই-অফিস পরিষেবা শুরু করছে। এই ডাটা সেন্টার স্থাপন রাজ্যের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে সমৃদ্ধ করে তুলবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ২০১৬-১৭ সালে ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচিতে ন্যাশানাল হাইড্রোলজি প্রজেক্ট চালু করা হয়। ন্যাশনাল হাইড্রোলজি প্রজেক্টের আওতায় রাজ্যের এই স্টেট ডাটা সেন্টারটি গড়ে তুলতে প্রথম পর্যায়ে ব্যয় করা হয় ৪ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই ডাটা সেন্টারের জন্য ব্যয় করা হবে ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, রাজ্যে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমি জলসেচ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্য সরকার আরও বেশি কৃষি জমি সেচের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে। এই কাজগুলি শেষ হলে আরও ১০ হাজার ৪০১ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। ৯৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্যে আরও ৩৪টি মাইনর ইরিগেশন স্টোরেজ কাম হারভেস্টিং স্ট্রাকচার প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে ৬ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। রাজ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য মোট ৪২টি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ১৫২ কিলোমিটার। এছাড়াও বিভিন্ন নদীর ভাঙ্গন রোধে ১৯৩টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ রূপায়ণ করা হবে। আগরতলা সহ গোমতী জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার জল নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পূর্ত দপ্তরের সচিব পি. কে. গোয়েল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্ত দপ্তরের জলসম্পদ বিভাগের মুখ্যবাস্তুকার সুধন দেববর্মা। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন জলসম্পদ বিভাগের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার বি. মগ। ডাটা সেন্টার উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.