আশাকর্মীগণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির অগ্রদূত : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, মে ১৬, : রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আশাকর্মীরা হলেন আস্থার প্রতীক। চিকিৎসকদের পাশাপাশি আশাকর্মীরাও রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সচল রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের মানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কারিগর হলেন রাজ্যের ৭,৮৬৬ জন আশাকর্মী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মহামারী সকল ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের মনে আশার প্রদীপ বারে বারে প্রজ্জ্বলিত করেছেন আশাকর্মীরা। ১৫ মে হাঁপানিয়ার আন্তর্জাতিক ইন্ডোর এক্সিবিশন হলে রাজ্যভিত্তিক আশা কনভেনশনের সূচনা করে একথাগুলি বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এবারের এই কনভেনশনের থিম ‘একতায় গড়ি সুস্থ রাজ্য'।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো সম্প্রসারণে প্রায় ২৭৩ কোটি টাকার মঞ্জুরী দিয়েছে। এরফলে এই মেডিক্যাল কলেজে এম.বি.বি.এস.-এর আসন সংখ্যা ১০০টি এবং পি.জি.টি. কোর্সে আসন সংখ্যা ৮৩টি বাড়ানো সম্ভব হবে। যা রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জনমন এবং ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযানের অন্তর্গত ভিলেজগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের দেওয়া ২৪টি মোবাইল মেডিক্যাল অ্যাম্বুলেন্সের পতাকা নেড়ে সূচনা করেন। তাছাড়া অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত থিম প্যাভেলিয়নও ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পরিষেবা দেওয়ার কাজকে আরও গুণগতমান সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলেছে। এই লক্ষ্যপূরণে আশাকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে আশাকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই আশাকর্মীদের আরও অধিক পরিমাণে সুযোগ সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রদানে সরকার সবসময়ই সচেষ্ট রয়েছে। এরজন্য কোনও ধরনের আন্দোলনের প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আশাকর্মীগণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির অগ্রদূত। মা ও শিশুর টিকাকরণ, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, পুষ্টি, হাসপাতালে প্রসব প্রভৃতি কাজ আশাকর্মীদের মাধ্যমে সমগ্র রাজ্যে সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তাদের মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধি সহ কাজের গুণগতমান বৃদ্ধি এবং ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর রয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৯৭ শতাংশ টিকাকরণ এবং মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৈশোর কর্মসূচির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ সফলতা এসেছে। রাজ্যকে ডায়ারিয়া মুক্ত করতে স্পট ডায়ারিয়া ক্যাম্প শুরু করা হয়েছে। শূন্য থেকে ৫ বছরের ৩ লক্ষ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। আর.বি.এস.কে.-এর ৪৮টি মোবাইল হেলথ টিম রয়েছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিকাশে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আশা মোবাইল অ্যাপ, আশা থিম সঙেরও উদ্বোধন করেন। রাজ্যের প্রত্যেক জেলা থেকে ১ জন করে সেরা আশাকর্মী ও সেরা আশা ফেসিলিটেটরকে ৫ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার, স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তাছাড়া ১ জন সেরা ডিস্ট্রিক্ট আশা প্রোগ্রাম ম্যানেজারকেও সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ গত ৪ বছরের সাফল্যসমূহ সহ প্রকাশিত নিরাময় আরোগ্য প্রকল্প শীর্ষক একটি পুস্তিকারও আবরণ উন্মোচন করেন। রাজ্যের প্রত্যেক আশাকর্মী ও আশা ফেসিলিটেটরদের এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে তারা স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সহজেই জানতে পারবেন।

আজকের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা প্রতীকী হিসেবে ২ জনের হাতে এই মোবাইল ফোনও তুলে দেন। পরবর্তীতে বাকিদের দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে আশাকর্মীগণ আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তারা হলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সুসংগঠিত তৃণমূলস্তরের কর্মী। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে নিযুক্ত হওয়া এই সকল কর্মীরা আজ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের যুগ্ম অধিকর্তা ডা. নূপুর দেববর্মা এবং ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব ডা. সৌভিক দেববর্মা। এছাড়া অতিথি হিসেবে ছিলেন আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের মিশন অধিকর্তা জি.এস. নায়েক, স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস, মেডিক্যাল এডুকেশনের অধিকর্তা ডা. এইচ. পি. শর্মা। অনুষ্ঠানে রাজ্যের ৮ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ আশাকর্মী, আশা ফেসিলিটেটরগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.