সোমনাথ মন্দির ভারতীয়দের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার প্রতীক : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, মে ১২, : সারা দেশের সঙ্গে ১১ মে রাজ্যেও উদযাপিত হয় ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব'। আগরতলা শহরের সেন্ট্রাল রোডস্থিত শিববাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী।
রাজ্যভিত্তিক এই অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী শিববাড়িতে ভগবান মহাদেবের জলাভিষেক করেন এবং পূজা দেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, সাহস ও ভক্তির পুনঃজাগরণের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয়দের মনে নিজ নিজ ধর্ম, ভাষা, ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার স্ফূরণ ঘটানোর লক্ষ্যে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ১০২৬ সালে অর্থাৎ ১০০০ বছর পূর্বে গজনীর শাসক সুলতান মাহমুদ প্রথম সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেছিলেন। এই মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে ১১ জানুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে এই ঐতিহাসিক বছরটি পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বর্তমান যুব সমাজকে নিজেদের ঐতিহ্য, ধর্ম, সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন করা। যাতে দেশের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শ্রদ্ধালু গুজরাটের ভেরাবলে আরব সাগর তীরে অবস্থিত এই মন্দির দর্শনে যান।
এই মন্দির ভারতীয়দের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার প্রতীক। শতাব্দী ব্যাপী বারবার বহিঃশত্রুদের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই মন্দির। দেশের সকল মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে বারবার। যারজন্য একে চিরন্তন পীঠও বলা হয়। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রথম পীঠ এই সোমনাথ মন্দির স্থাপনে ভারতবর্ষের লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনোত্তর ভারতে তিনিই প্রথম এই মন্দিরের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করিয়েছিলেন এবং ১৯৫১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ পুনর্নির্মিত এই মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করেছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমনাথ স্বাভিমান পর্বের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি আজ সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণে পূজা দেন, মহাদেবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন এবং জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন। যা সরাসরি রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত হয়৷
অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আরও বলেন, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সকলকেই পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, বিজ্ঞানের সহায়তায় নিজেকে আরও মেলে ধরতে হবে। কিন্তু অবশ্যই নিজের শিকড়, ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতিকে ভুলে গেলে চলবে না। যে নিজের আত্মপরিচয় বিস্মৃত হতে দেয় না তাকেই ইতিহাস মনে রাখে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে রাণী অহল্যাবাঈ থেকে শুরু করে যে সকল যুগপুরুষ এবং ভারতীয়রা সোমনাথ মন্দির স্থাপনে সহায়তা করেছেন সেসকল পুণ্যাত্মদেরও স্মরণ করার দিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন এই ধরনের অনুষ্ঠান যুব সমাজের মনে ভারতীয়তাবোধকে আরও সুদৃঢ় করে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতেও সহায়তা করবে। এছাড়াও তিনি সোমনাথ মন্দিরের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানের শুরুতে লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ি পুকুর থেকে জলভর্তি ৭৫টি কলস নিয়ে শিববাড়ি পর্যন্ত মহিলাদের একটি শোভাযাত্রাও অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের অন্যান্য কর্পোরেটরগণ, রাজ্য সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী সহ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য এবং বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানটিতে সোমনাথের সামগ্রিক ইতিহাস নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও পরিবেশিত হয়। রাজ্যের খ্যাতনামা শিল্পীদের দ্বারা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়।
আরও পড়ুন...