কেন্দ্রীয় সরকার মা-বোন ও কণ্যাদের কল্যাণ, উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, মে ১, : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের কল্যাণে এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছেন। সংসদে ‘নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম' পাশ হলে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই বিরোধী দলগুলি এই বিল পাশ করার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের মা-বোন ও কন্যাদের কল্যাণ, উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ বিধানসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম) সংশোধন বিষয়ে উত্থাপিত প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। বিধানসভায় আলোচনার পর প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
৩০ এপ্রিল বিধানসভার একদিনের অধিবেশনে সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক বিধায়ক কল্যাণী সাহা রায় প্রস্তাবটি বিধানসভায় উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন করেন সরকার পক্ষের আরও ১৬ জন বিধায়ক। মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়ের আনা মোশনটি ছিল "With a view to further strengthening and safeguarding the constitutional rights of Indian women, this House calls for the establishment of a consensus among all parliamentary political parties of the country and earnestly urges the Central Government to take immediate steps to initiate the process of delimitation on the basis of the Census of 2011, and simultaneously to undertake renewed efforts to amend the Constitution (131" Amendment) Bill ('ना शति
a rot) with the objective of ensuring the implementation of reservation of one-third of the total seats for women in the Lok Sabha and the State Legislative Assemblies." আজ বিধানসভা অধিবেশনে প্রস্তাবটির উপর মুখ্যমন্ত্রী সহ ২৫ জন বিধানসভার সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। প্রস্তাবটি সমর্থন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম ভারতের মহিলাদের স্বশক্তিকরণের পথে এক বড় পদক্ষেপ।
ভারতের মানুষ ইতিমধ্যেই তা বুঝতে পেরেছেন। দেখাগেছে জনকল্যাণে আনা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিলের সবসমই বিরোধিতা করেছে বিরোধী দলগুলি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তারা দেশের ঐক্যবদ্ধ সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বিভেদ, অশান্তি ও সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির লোকসভা আসন কমে যাবে বলে যে প্রচার করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কর্ণাটকে বর্তমানে লোকসভার আসন সংখ্যা ২৮টি। ডিলিমিটেশন হলে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪২টি হবে। তেমনি অন্ধ্রপ্রদেশে লোকসভার আসন সংখ্যা ২৫ থেকে বেড়ে ৩৮টি, তেলেঙ্গানায় ১৭ থেকে বেড়ে ২৬টি, তামিলনাডুতে ৩৯ থেকে বেড়ে ৫৯টি, কেরালায় ২০টি আসন থেকে বেড়ে ৩০টি আসন হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলগুলি জম্মুকাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের সময়, ৩ তালাক প্রথা বাতিলের সময়, সিএএ আইন প্রবর্তনের সময় বিরোধিতা করেছে। দেশের নারীদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করা উচিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিল ভারতমাতা ও নারী শক্তির সেবায় এক নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গী। মহিলা বিরোধী শক্তি আজ হয়ত সফল হয়েছে কিন্তু কোটি কোটি মহিলার আশীর্বাদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে। এই শক্তি আমাদের পথ দেখাবে। দেশের মহিলাদের নায্য অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে শক্তি যোগাবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম-এ এসসি ও এসটিদের জন্য যে আসনগুলি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে তার মধ্যেও ৩৩ শতাংশ আসন এই অংশের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রতিটি রাজ্যে তার জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে লোকসভার আসন থাকবে। প্রতিটি আসনে প্রায় সমসংখ্যক জনসংখ্যা থাকবে। কেন্দ্ৰীয় সরকার চায় এই আইনটি ২০২৯ সালের লোকসভার নির্বাচনের আগেই পুরোপুরি কার্যকর করতে। ২০২৬ সাল থেকে শুরু হওয়া 2027/২০২৮ সালের আদমসুমারীর অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের আদমসুমারী অনুযায়ী লোকসভা এলাকা পুন:বিন্যাস করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে নারীদের জন্য ২৭৩টি বা তারও বেশি আসন সংরক্ষণ করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রস্তাবিত বিলটি গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি উত্থাপিত প্রস্তাবটি সমর্থন করার জন্য দলমত নির্বিশেষে বিধানসভার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা রাখতে গিয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, দেশে ও রাজ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা এখন এগিয়ে যাচ্ছে। মাতৃশক্তির জাগরণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাজ করে চলেছেন। এখন মহিলারা শুধু ভোটার নয়, তারা সিদ্ধান্তকারীও। রাজ্যে এখন লাখপতি দিদির সংখ্যা বাড়ছে। অপারেশন সিন্দুরে মহিলারা বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছেন।
প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায়। তিনি সরকারের বিভিন্ন মহিলা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, নারীরা এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে পথ দেখাচ্ছে। ত্রিপুরা সরকার চাকরির ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালু করেছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মাজুপুষ্টি প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা প্রভৃতির কথা উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা রাখতে গিয়ে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, মহিলারা শুধু এখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না, তারা এখন ন্যাশনাল বিল্ডার্স। মহিলাদের স্বশক্তিকরণে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। ত্রিপুরা বিধানসভায় বর্তমানে ৮ জন মহিলা বিধায়ক রয়েছেন। এটা একটা নারী ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহিলারা এগিয়ে যাচ্ছেন। এই বিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মহিলাদের সংখ্যা বাড়বে। মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা রাখতে গিয়ে বলেন, নারী ক্ষমতায়নের জন্য এই বিলটি অত্যন্ত জরুরি। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার নারী স্বশক্তিকরণে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং তার ফলস্বরূপ মহিলারা স্বনির্ভর হচ্ছেন।
খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা রাখতে গিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার মহিলা স্বশক্তিকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি উজ্জ্বলা যোজনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করে প্রমাণ করেছে তারা মহিলা বিরোধী মনোভাব পোষণ করেন। তিনি আরও বলেন, এই মহিলা বিল পাস হলে গণতন্ত্র আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি বিরোধীদের দ্বিচারিতার কথা উল্লেখ করেন।
ত্রয়োদশ বিধাসনভার বিশেষ অধিবেশনে নারীশক্তি বন্ধন অধিনিয়ম বিলের উপর আলোচনা করতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন মানে দেশের সমৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়ন। মহিলাদের উন্নয়নের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম বিলটি খুবই জরুরি। মন্ত্রী শ্রীমতি চাকমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে মহিলাদের উন্নয়নে / উত্তরনের দিশায় কাজ করছেন। তিনি বলেন, নারীদের সম্মান এবং উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে নারীদের কল্যাণে অনেকগুলি যোজনা চালু করেছেন।
সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা রাখতে গিয়ে বলেন, মহিলাদের উন্নয়নে এই বিলটি পাশ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ মহিলারা গণতন্ত্রে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
আজ বিধানসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিধানসভায় সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়। এছাড়াও প্রস্তাবের উপর আলোচনা রাখেন বিধায়ক নন্দিতা দেববর্মা রিয়াং, মিনারাণী সরকার, অন্তরা সরকার দেব, রঞ্জিত দেববর্মা, রঞ্জিত দাস, বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল, বিনয়ভূষণ দাস, স্বপ্না মজুমদার।
এছাড়া প্রস্তাবের বিপক্ষে আলোচনা করেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, মহিলাদের বাদ দিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নারীর ক্ষমতায়ণে সব রাজনৈতিক দলেরই ভূমিকা রয়েছে। তাদের আরও অধিকার দিতে হবে। এছাড়াও প্রস্তাবের বিপক্ষে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক শ্যামল চক্রবর্তী, গোপাল চন্দ্র রায়, দীপঙ্কর সেন, সুদীপ রায় বর্মন, শৈলেন্দ্ৰ চন্দ্ৰ নাথ।
আরও পড়ুন...