ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা- বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬ বেঙ্গালুরুতে বিনিয়োগকারীদের রোডশো অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, এপ্রিল ১১, : বিনিয়োগ প্রচারের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবং ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা: বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬'-এর প্রস্তুতি হিসেবে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর ১০ এপ্রিল বেঙ্গালুরুর হোটেল আইটিসি উইন্ডসর-এ 'ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা- ইনভেস্টরস' রোডশো' আয়োজন করে।

বেঙ্গালুরু রোডশোটি দক্ষিণ ভারতের শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, স্টার্ট-আপ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার শিল্প পরিবেশ, সাম্প্রতিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত উদ্যোগ এবং ক্ষেত্রভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগসমূহ তুলে ধরা হয়। এছাড়াও রোড শোতে বিনিয়োগ সহায়তা ও ব্যবসা সহজীকরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, ত্রিপুরা সরকার শিল্পনীতি সংস্কার, পদ্ধতিগত সরলীকরণ এবং সময়বদ্ধ অনুমোদনের মাধ্যমে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস' কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা এবং কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোর সহায়তায় ত্রিপুরায় উদীয়মান ও ঐতিহ্যবাহী উভয় শিল্প ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি শিল্প প্রতিনিধিদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের সুযোগ গ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেন।

সচিব কিরণ গিত্যে আরও জানান যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে ত্রিপুরা এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং রাজ্যের জিডিপি পারফরম্যান্স উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনীয়। তিনি বলেন, ধারাবাহিক সরকারি বিনিয়োগ, উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ত্রিপুরার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ধারণাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।

ত্রিপুরার কৌশলগত অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন, যা আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াচ্ছে। এর ফলে লজিস্টিকস, ভ্যালু অ্যাডেড ম্যানুফ্যাকচারিং, পরিষেবা এবং সীমান্ত-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা ড. দীপক কুমার তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরে তথ্য প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবা, ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি-নির্ভর উৎপাদন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও ফার্মাসিউটিক্যালস, পর্যটন ও আতিথেয়তা, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বাঁশ, রাবার ও আগরউড-ভিত্তিক শিল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি, নগর পরিকাঠামো, রিয়েল এস্টেট, হস্ততাঁত ও হস্তশিল্প এবং উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগের সুযোগ সমূহ তুলে ধরেন।

এছাড়াও অধিকর্তা ড. দীপক কুমার বিনিয়োগবান্ধব পরিকাঠামো, শিল্পের জন্য জমির প্রাপ্যতা, উপযুক্ত প্রকল্প স্থানের সনাক্তকরণ এবং প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পূর্ণ সহায়তা প্রদানের বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দ্রুত অনুমোদন ও বিনিয়োগ- পরবর্তী সহায়তা নিশ্চিত করতে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে স্কিল ডেভেলপমেন্টের অধিকর্তা প্রদীপ কৃষ্ণরাজ ত্রিপুরার শিল্প-সংযুক্ত দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেন, যা বিভিন্ন কর্মসূচি ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছে।

নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক পরিকাঠামো এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে পরিকল্পিত নগর প্রকল্প ও ইন্টিগ্রেটেড টাউনশিপের কথা তুলে ধরেন।

এনটিএফপি সেন্টার অব এক্সেলেন্স-এর অধিকর্তা প্রসাদ রাও ভাদ্দারাপু আগরউড শিল্পের জন্য ত্রিপুরার সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিষয় তুলে ধরেন, যা বিনিয়োগকে আরও সহজ ও সম্প্রসারণযোগ্য করে তুলছে।

অনুষ্ঠানে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনার পাশাপাশি ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা এবং ওয়ান- টু-ওয়ান বি-টু-জি বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো স্পষ্ট করেন। এই রোডশোর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২,০০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ৪৪টি এলওআই/এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বেঙ্গালুরু রোডশোটি দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়িক মহলের সঙ্গে ত্রিপুরার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি বিনিয়োগবান্ধব, সংস্কারমুখী ও দ্রুত উন্নয়নশীল রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরার অবস্থানকে আরও জোরদার করেছে। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর থেকে এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.