বুনিয়াদি শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট মোচনে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, মার্চ ২৪, : রাজ্য সরকার রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মেধাবী ও যোগ্যতামান সম্পন্ন যুবক-যুবতীদের বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করে বিদ্যালয়গুলির উৎকর্ষ সাফল্যের বিষয়ে প্রথম থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আন্তরিক। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী যেমন স্বচ্ছ তেমনি কর্মসংস্থানমুখী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগের সংখ্যা এবং হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৩ মার্চ বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে একটি বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
বিধায়ক ইসলামউদ্দীনের আনা বেসরকারি প্রস্তাবটি ছিল ' এই বিধানসভা সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব করছে যে, রাজ্যের বিদ্যালয় সমূহে শিক্ষকের চরম সংকট নিরসনে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সমস্ত যুবক-যুবতীদেরকে প্রতি শীঘ্র শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র প্রদান করা হোক।' বিধায়ক ইসলামউদ্দীন প্রস্তাবটি বিধানসভায় উত্থাপন করেন। এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে টেট সার্টিফিকেট অর্জন করা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার আইনী অধিকার অর্জন করা নয়। এটি কেবলমাত্র শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার জন্য আবশ্যিক যোগ্যতা অর্জন মাত্র। প্রকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থার বিধি, শূন্যপদের সংখ্যা এবং মেধার ভিত্তিতে পৃথকভাবে করা হয়। টেট উত্তীর্ণ হওয়া মানেই সরাসরি নিয়োগের নিশ্চয়তা নয়, বরং এটি শিক্ষক হওয়ার প্রথম ধাপ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্যের নিরিখে বলতে গেলে টিআরবিটি পরিচালিত টেট পরীক্ষা ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮-এর মার্চ মাসের আগে টেট-১ এবং টেট-২ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগের শতকরা হার ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৮ সালের পর থেকে ৬টি টেট-১ এবং টেট-২ পরীক্ষায় সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়ে টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রায় ৭৮ শতাংশ প্রার্থীকে নিয়োগ করা হয়েছে, যা রাজ্য সরকারের আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার শিক্ষক নিয়োগকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে এবং শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে গুণমান সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে সবসময় চেষ্টা করছে। বুনিয়াদি স্তরে (অস্নাতক ১,০৩৬ জন এবং স্নাতক ১,০২০ জন) ২,০৫৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য গতবছরের ১৪ নভেম্বর মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে টিআরবিটি'র কাছে রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছে এবং যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা পাওয়ার পর দ্রুত নিযুক্তি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মধ্যশিক্ষা অধিকারের অধীনে থাকা বিদ্যালয়গুলিকে শিক্ষক সংকট দূর করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই স্পেশাল এডুকেটর পদে ৫৭ জনকে এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন টিচার পদে ১০৬ জনকে অফার দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া স্নাতক শিক্ষক পদে ৭০০ জনকে, বিষয় শিক্ষকের ৯১৫টি পদে এবং টিপিজিটি কম্পিউটার সায়েন্স পদে নিয়োগের জন্য টিআরবিটি'র কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। টিআরবিটি ইতিমধ্যেই এই পদগুলিতে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ করেছে। আশা করা হচ্ছে অতি সত্বর এই পদগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার যুব সমাজের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বুনিয়াদি শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট মোচনে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। বেসরকারি প্রস্তাবটির উপর আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক ইসলামউদ্দীন এবং বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়।
আরও পড়ুন...