জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, মার্চ ১৯, : বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের পর আনা ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব ১৮ মার্চ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপর ১৮ মার্চ আলোচনায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এবং সরকার ও বিরোধী দলের ৮ জন বিধায়ক। আলোচনার পর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা ১৪৭টি সংশোধনী প্রস্তাব ধ্বনি ভোটে বাতিল হয়ে যায় এবং রাজ্যপালের ভাষণ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
রাজ্যপালের ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবকে সমর্থন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথা রাজ্যপাল তার বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আগামীদিন রাজ্য সরকার কি কি কাজ করতে যাচ্ছে তার সুস্পষ্ট ধারণাও তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠন করার সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপুরাও তার উন্নয়নের রোড ম্যাপ তৈরি করেছে। একথাও রাজ্যপাল ভাষণে উল্লেখ করেছেন। সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্রিপুরাও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। রাজ্য সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। রাজ্যের উন্নয়ন শুধু মন্ত্রিসভার সদস্যগণ বা শাসক দলের বিধায়করাই করছেন তা নয়, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। বিরোধী দলের সদস্যদের আনা ১৪৭টি সংশোধনী প্রস্তাবের মুখ্যমন্ত্রী বিরোধিতা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের সদস্যগণ যেসব সংশোধনী এনেছেন এ বিষয়ে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব রাজ্যপালের ভাষণেই রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি রাজ্যপালের ভাষণের বিভিন্ন প্যারা উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জি.এস.ডি.পি. বর্তমানে ১০ থেকে ১১ শতাংশ। যা জাতীয় গড় ৭.৪ শতাংশ থেকেও বেশি। রাজ্য ইতিমধ্যেই পূর্ণ সাক্ষরতার সম্মান অর্জন করেছে। রাজ্যে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৯৫.৬ শতাংশ। ২০১১ সালে রাজ্যে সাক্ষরতার হার ছিল ৮৭.৭৫ শতাংশ। সাক্ষরতার হারে ত্রিপুরা এখন দেশে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে নতুন নতুন কলেজ তৈরি করা হচ্ছে। নলছড়ে মহিলা কলেজে পঠন পাঠন শুরু হবে। রাজ্যের মহিলা মহাবিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ যেন সহজে গুণগত চিকিৎসার সুযোগ পায় রাজ্য সরকার সেই ব্যবস্থা করছে। এম.বি.বি.এস., বি.ডি.এস., নার্সিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে।
জিবিপি মেডিক্যাল কলেজে আরও ১০০টি শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকায় ডেন্টাল কলেজের পরিকাঠামো তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব সুস্থ কৈশোর প্রভৃতি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যে একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গত ২০২৪ সালের তুলনায় অপরাধের হার ৮.৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নারী সংক্রান্ত অপরাধ কমেছে ১১ শতাংশ। ধর্ষণের ঘটনা কমেছে ৩৩ শতাংশ। হত্যাকান্ডের ঘটনা কমেছে ২৬ শতাংশ। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং উন্নত পুলিশি তৎপরতার জন্য এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠন করতে পুলিশি অভিযানে ৫১৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৩৫০টি এন.ডি.পি.এস. মামলা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়ণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছাত্রাবাস, পানীয়জলের ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, একলব্য স্কুল তৈরি করা, ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্টাইপেন্ড প্রদান প্রভৃতির কথা তুলে ধরেন। রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজ্য সরকার যে সব কর্মসূচি রূপায়ণ করছে তাও তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের উন্নয়নে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমালোচনা করা হলেও রাজ্যের উন্নয়নের বাস্তবচিত্র অস্বীকার করার উপায় নেই। সবাই মিলে ত্রিপুরাকে শক্তিশালী করতে হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের পাশাপাশি বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার কাজে সামিল হতে মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানান।
রাজ্যপালের ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপর আজ আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, শম্ভুলাল চাকমা, রঞ্জিত দেববর্মা, অন্তরা সরকার দেব, চিত্তরঞ্জন দেববর্মা, শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ, গোপাল চন্দ্র রায়, দীপঙ্কর সেন।
আরও পড়ুন...