রাজ্য সরকারের লক্ষ্য জনজাতি এলাকায় শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি জনজাতি যুবক যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তোলা
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, মার্চ ১৭, : রাজ্য সরকারের লক্ষ্য জনজাতি এলাকাগুলিতে শিক্ষার প্রসার ও জনজাতি ছেলেমেয়েদের মধ্যে মেধা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে জনজাতি মহিলাদের নিজেদের পরম্পরাগত হস্তশিল্পের সাথে আরও বেশি করে যুক্ত করে রিয়া, পাছড়া বুননে উৎসাহিত করা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে তাদের বিকল্প আয়ের সাথে যুক্ত করা। রাজ্য সরকার চায় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে জনজাতিগণও অংশীদার হোক। গত ১৬ মার্চ, রবীন্দ্র ভবনে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে জনজাতি মহিলাদের সুতা প্রদান এবং বিভিন্ন বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার জনজাতি মহিলাদের আরও বেশি করে স্বনির্ভর করে তুলতে চায়। বর্তমানে সরকারের প্রচেষ্টায় রাজ্যের জনজাতি মহিলাদের হাতে তৈরি রিয়া, পাছড়া জিও ট্যাগ পেয়েছে। জনজাতি মহিলাদের নিজস্ব শিল্পকে বিশ্ব দরবারে আরও বেশি করে পৌঁছে দিতে তার সদ্ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার জনজাতিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে জোর দিয়ে ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযান, প্রধানমন্ত্রী জনমন প্রকল্প সহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। রাজ্য সরকারও মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি উন্নয়ন মিশন সহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করে রাজ্যের জনজাতি এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নানা পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। রিয়াং জনজাতিদের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নে সরকার ৮০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জনজাতি এলাকায় ৫০০টি বৈদ্যুতিক অটো বিতরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য জনজাতি এলাকায় শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি জনজাতি যুবক যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তোলা। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের জনজাতি এলাকাগুলির হোস্টেলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য সরকার আরও ১৭০ জন হোস্টেল সুপার নিয়োগ করবে। বর্তমানে ৩৪ হাজার জনজাতি ছাত্রছাত্রী হোস্টেলগুলি থেকে উপকৃত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আনুষ্ঠানিকভাবে ৫টি মহকুমা থেকে আগত জনজাতি মহিলাদের হাতে রিয়া পাছড়া বোনার সুতা তুলে দেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় মেধাবী জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের হাতে শংসাপত্র ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, রাজ্য সরকার জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আগে রাজ্যে ৪টি একলব্য স্কুল ছিলো। বর্তমানে তা ২১টি হয়েছে। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন নতুন হোস্টেল গড়ে তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জনবিকাশ যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন প্রকল্পে জনজাতিদের মধ্যে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব তথা অধিকর্তা শুভাশিস দাস। অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকগণও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন...