রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, মার্চ ১৫, : রাজ্যবাসীকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বহির্রাজ্যে রোগীদের রেফারের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে টেলিমেডিসিন পরিষেবা সহ নানা উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ১৪ মার্চ সোনারতরী হোটেলে ৫৬তম অল ত্রিপুরা মেডিকেল সম্মেলনের (ট্রিমার্কন- ২০২৬) উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ভারতবর্ষের চিকিৎসকদের অন্যতম পুরনো একটি স্বাস্থ্য সংগঠন। চিকিৎসা স্বাস্থ্যের উন্নয়নে আইএমএ বিরাট ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে তথা সামাজিক এবং দুর্যোগপূর্ণ সময়েও তাদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। রাজ্যের এই উন্নয়নের গতিকে লক্ষ্য করেই নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে অভিহিত করেছে। সকলের পরিশ্রমের ফলেই এই সফলতা এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা একটি নোবেল পেশা, যা অন্য যেকোন পেশার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। রোগীদেরও চিকিৎসকদের প্রতি যথেষ্ঠ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। চিকিৎসকদেরও উচিৎ রোগীদের ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সহিত পরিষেবা প্রদান করে তাদের আস্থা অর্জন করা। তবেই তারা মানুষের মনে একটা বিশেষ জায়গা নিতে পারবেন। রাজ্যের চিকিৎসকদের মেধা দেশের যেকোন প্রান্তের চিকিৎসকদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তিনি বলেন, দক্ষতার মাধ্যমেই যেকোন পেশায় স্বার্থকতা আসে। রাজ্য সরকার চিকিৎসক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, রোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে দেওয়ার লক্ষ্যে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৭২৭ থেকে বাড়িয়ে ১৪১৩ করা হয়েছে। এজিএমসি এবং জিবিপি হাসপাতালে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপার স্পেশালিটি ব্লক তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে ৭টি সুপার স্পেশালিটি চালু করা হয়েছে। এজিএমসি এবং জিবিপি হাসপাতালে মা এবং শিশু হাসপাতাল চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চ গুণমান সম্পন্ন পরিষেবা এবং তথ্যভিত্তিক মাতৃত্ব এবং নবনির্মিত লেবার রুম এবং ওটি কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। জিবিপি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে অপারেশন থিয়েটার চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে নানা ধরণের সার্জারিও করা হচ্ছে। রাজ্যের জেলা হাসপাতালগুলিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকার খোয়াই এবং সিপাহীজলা জেলায় নতুন জেলা হাসপাতালের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। গোমতী জেলা হাসপাতালে ১০০ শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও আগরতলার রেন্টার্স কলোনীতে একটি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ এবং গোমতী জেলার টেপানিয়াস্থিত ইন্টিগ্রেটেড আয়ুষ হাসপাতালে আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যে একটি হেলথ ইউনিভার্সিটি স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, ভারতমাতা ক্যান্টিন ও নাইট শেল্টার স্থাপন, জিবিতে রোগীর পরিজনদের জন্য ১০ টাকার বিনিময়ে দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা চালু, মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৈশোর অভিযান, স্টপ ডায়ারিয়া ক্যাম্পেইন, টিকাকরণ কর্মসূচি, অসংক্রমক রোগ নির্মূলে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ ইত্যাদি বিষয়ে রাজ্য সরকারের সফলতার চিত্র তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী এই সম্মেলনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে ৮ জন চিকিৎসককে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে তাদের অবদানের জন্য আইএমএ-ত্রিপুরা শাখার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাদের হাতে স্মারক উপহার এবং মানপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, ডা. জয় চক্রবর্তী। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ডা. দীপঙ্কর পি ভৌমিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার মিশন ডিরেক্টর সাজু বাহিদ এ, হেলথ সার্ভিসের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, পরিবার ও রোগ প্রতিরোধকমূলক চিকিৎসা বিভাগের অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস, ত্রিপুরা মেডিকেল এডুকেশনের অধিকর্তা প্রফেসর ডা. এইচ পি শৰ্মা, ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখার সভাপতি ডা. অভিজিৎ সরকার প্রমুখ।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.