রাজ্যের জনজাতি অংশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, ফেব্রুয়ারি ১৯, : রাজ্যের জনজাতি অংশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ২ ও ৯ নভেম্বর ২০২৫-এ জনজাতি উন্নয়নে রাজ্যের জনজাতি আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত সভায় গৃহীত মতামত ও পরামর্শের প্রেক্ষিতে ঐদিনের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র সংখ্যাতাত্ত্বিক উন্নয়ন নয়, বরং জনজাতিদের আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মানকে অক্ষুন্ন রেখে তাঁদের সমাজের উন্নয়নের মূলস্রোতে শামিল করা। সভায় রাজ্যের জনজাতি কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন সরকারের গৃহীত প্রতিটি প্রকল্পের সুবিধা যেন পাহাড়ের দুর্গমতম প্রান্তে বসবাসকারী শেষ ব্যক্তিটির কাছেও পৌঁছায়। জনজাতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দপ্তরভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করার উপর মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন তখনই সার্থক হবে যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এই লক্ষ্যে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অর্থনীতি, পানীয়জল, বিদ্যুৎ, জনজাতিদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, খেলাধুলা, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, পরিবহণ, পর্যটন, বন, কৃষি, মাদক প্রতিরোধে উদ্যোগ, সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কার্যকর করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সুযোগের অভাবে যেন কোনও জনজাতি যুবকের মেধার বিকাশ ঘটার ক্ষেত্রে কোনও বাধা না আসে।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী কৃষি, পশুপালন এবং হস্তশিল্প এই তিনটি ক্ষেত্রকে গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে জনজাতি মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিনের সভায় তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড, তাকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনজাতিদের সমৃদ্ধ লোকসংগীত, রীতিনীতি এবং চিরাচরিত উৎসবগুলিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেন জনজাতিদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরম্পরা হারিয়ে না যায়। প্রথাগত শিক্ষার সাথে সাথে নিজস্ব সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলে রাস্তাঘাট এবং পানীয়জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কাজকে কোনওভাবেই অবহেলা করা চলবে না। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। আধিকারিকদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বলেন। পাহাড় ও সমতলের ঐক্যবদ্ধ বিকাশের মাধ্যমেই ‘এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়া সম্ভব বলে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা, প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক আর. কে. শ্যামল, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, কৃষি দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব, অধিকর্তা সহ পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন...