ছাত্রছাত্রীদের আনন্দময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষা প্রদান করলে তাদের উপযুক্ত মানসিক বিকাশ ঘটে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, ফেব্রুয়ারি ১০, : শিক্ষক শিক্ষিকারা হলেন সমাজের মেরুদন্ড এবং ভবিষ্যৎ গড়ার কান্ডারি। আজকের ছাত্রছাত্রীরা হলো আগামী দিনে দেশের পরিচালক। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মূল্যবোধ, সুস্থ ও সুন্দর মানসিক বিকাশের মসৃণ পথ তৈরী করে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষক শিক্ষিকাদের। ৯ ফেব্রুয়ারি আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কুল লিডারশিপ (এনসিএসএল) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল প্ল্যানিং এডমিনিস্ট্রেশন (এনআইইপিএ) দিল্লি এবং রাজ্যের এনসিইআরটি পরিচালিত স্কুল লিডারশিপ একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৩ দিনের আঞ্চলিক স্কুল লিডারশিপের কর্মশালা ও পর্যালোচনা কর্মসূচির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকাগণের সমাজের জন্য ভাল কিছু করে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের আনন্দময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষা প্রদান করলে তাদের উপযুক্ত মানসিক বিকাশ ঘটে। সেই জন্য তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কেও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনা করার দরকার। শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করলেই হবেনা, সমাজ থেকেও প্রতিনিয়ত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যা বলেন তা করে দেখান। বিকশিত ভারত গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষিত যুবক যুবতীদের জন্য ‘পরীক্ষা পে চর্চা' সহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। ছাত্রছাত্রীরা যাতে ভবিষ্যতে লাভবান হতে পারে সেই লক্ষ্যে নতুন শিক্ষানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত যুবসমাজ হলো দেশ ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানবসম্পদ৷ এই সম্পদকে সঠিক দিশায় পরিচালিত করতে হবে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে। ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত রাখার প্রয়াস নিতে হবে।

পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সময়ের সাথে তালমিলিয়ে নিজেদেরকে আপ টু ডেট রাখতে হবে। রাজ্য সরকার ছাত্রছাত্রীদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পগুলি রূপায়ণে সঠিক নজরদারি বজায় রাখতে হবে। এক সময়ে ভারতবর্ষের শিক্ষা পদ্ধতি ও দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি জগৎ বিখ্যাত ছিল। কিন্তু পরাধীনতা ও বৈদেশিক আগ্রাসনে সেগুলি ধ্বংস হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বিস্তারে সেই হৃৎ গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারও তার অংশীদার হতে চায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই রাজ্য সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে বলেন, রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে সঠিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদানে নিপুন ত্রিপুরা, সুপার-৩০ সহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের ১২ হাজার শিক্ষিক শিক্ষিকাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে নানা পুরস্কারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা প্রদানে শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় রাখার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশানেল প্ল্যানিং এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন-এর ভাইস চ্যান্সেলার প্রফেসর শশীকলা ওয়ানঞ্জারি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসসিইআরটি-এর অধিকর্তা এল ডার্লং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ও বুনিয়াদি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা রাজীব দত্ত, ককবরক ও অন্যান্য পশ্চাৎপদ ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দহরি জমাতিয়া, এনসিএসএল- এর অধ্যাপক ড. সান্ত্বনা জি মিশ্র।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.