রাজ্যের প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছায় সে দিশায় কাজ করছে সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, ফেব্রুয়ারি ১, : শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিল্প বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে ত্রিপুরা এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে এক বিশেষ স্থানে পৌঁছে গেছে। ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনীয়া বিদ্যাপীঠ মাঠে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনেকগুলি উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী ৩১ জানুয়ারি প্রথমেই বিলোনীয়া মহকুমার রাজনগর এলাকায় নিহারনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন। ৬ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষখামার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন। ৯ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বিলোনীয়া ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের দ্বারোদঘাটন করেন ভার্চুয়ালি। এই বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবন তৈরি করা হয়েছে ৪ কোটি ৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করে।

ঘোষখামার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, রাজ্যের প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছায় সে দিশায় কাজ করছে সরকার। রাজনগর এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে রাস্তাঘাট, পানীয়জল, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ইত্যাদির উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে। উন্নয়নের নিরিখে ত্রিপুরা ৩৪৭টি পুরস্কার পেয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, স্মার্ট ক্লাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি নির্মাণ, ছাত্রছাত্রীদের স্টাইপেন্ড প্রদান সবই করা হচ্ছে। নয়া শিক্ষানীতির দিশায় এস.সি.ই.আর.টি. কোর্স চালু করা হয়েছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে গুণগত শিক্ষা প্রদান করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয় হলো মন্দির। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে শিক্ষকদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের আরও আপডেট হতে হবে। শিক্ষক সমস্যা সমাধানে টেটের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগনীতিতে শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। পি.এম.-শ্ৰী, বিদ্যাজ্যোতি স্কুল স্থাপন করা হয়েছে গুণগত শিক্ষার প্রসারে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষকদের পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। নালন্দা, তক্ষশিলার মতো পুরাতন পরম্পরাগত শিক্ষার প্রসঙ্গও ভাষণে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৪৩৫টি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খেলাধুলার মানোন্নয়নে এখন নতুন নতুন মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। মহকুমা স্তর থেকে ক্রীড়া প্রতিভা তুলে আনা হচ্ছে। মণিশংকর মুড়াসিংয়ের মতো জাতীয় স্তরের ক্রিকেটার তৈরি হয়েছে ত্রিপুরায়। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠনে খেলাধুলার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠনে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী আজ বিলোনীয়া ইন্ডোর ক্রিকেট অনুশীলন শেডের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি জিরানীয়া ও কৈলাসহর ইন্ডোর ক্রিকেট অনুশীলন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। বিলোনীয়া বিদ্যাপীঠ মাঠে তিনি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলাভিত্তিক নেশামুক্ত প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ফাইনাল ম্যাচের উদ্বোধন করেন। সাতচাঁদ ও ঋষ্যমুখ একাদশ ফাইনাল ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মুখ্যমন্ত্রী এর আগে বিলোনীয়ার বনকরে বিদ্যাসাগর মাছ ও সবজি বাজারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২১ কোটি ৪ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই মার্কেট তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করার জন্য রাজ্য সরকার ২১টি একলব্য স্কুল স্থাপন সহ নানা পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে। পৃথক পৃথকভাবে অনুষ্ঠানগুলিতে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, বিধায়ক মাইলায়ু মগ, বিধায়ক অশোক মিত্র, বিধায়ক দীপঙ্কর সেন, দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, সহকারী জিলা সভাধিপতি তপন চন্দ্র দেবনাথ, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক মহ, সাজাদ পি, জেলা পুলিশ সুপার মৌর্যকৃষ্ণ সি, রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ নাথ, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেক, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন.সি. শর্মা, বিলোনীয়া ক্রিকেট অ্যাসোর সম্পাদক সুব্রত দে প্রমুখ। জিরানীয়া থেকে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, কৈলাসহর থেকে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন। মুখ্যমন্ত্রী আজ বিলোনীয়ায় একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করেন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ বিলোনীয়া বিদ্যাপীঠ মাঠে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকার জন্য নীরালতা ত্রিপুরাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন। সংবর্ধনা স্মারক ও শংসাপত্র তার হাতে তুলে দেন। এছাড়াও এস.এস.সি. (জি.ডি.) জে.এ.জি.আর.এ.টি.-এর কিছু ব্যক্তিকেও সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.