শিক্ষা হলো সেই সেতু যা অজ্ঞতাকে জ্ঞানের সাথে, অন্ধকারকে আলোর সাথে যুক্ত করে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ৩১, : রাজ্যের বর্তমান সরকার শিক্ষাকে উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলে ত্রিপুরাকে একটি এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ৩০ জানুয়ারি রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আগরতলার নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের প্লাটিনাম জুবিলির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে রাজ্যের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে বর্তমান রাজ্য সরকার পরিকল্পিত ও সুসংহতভাবে কাজ করে চলছে। এরফলেই ত্রিপুরা আজ দেশের তৃতীয় পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ত্রিপুরার সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৯৫.৬ শতাংশ। যা একটি ঐতিহাসিক অর্জন। তিনি বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কেবল পুঁথিগত জ্ঞানে নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, আধুনিক প্রযুক্তি, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে গড়ে তুলছে। নেতাজি স্কুলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যালয়ের একটি আলাদা গড়িমা রয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলাবোধ, দেশপ্রেম এবং গুণগত শিক্ষার বিকাশে এক অন্যতম পীঠস্থান। এই বিদ্যালয় রাজ্যের অন্যতম পুরোনো ও মর্যাদাপূর্ণ বিদ্যাপীঠ হিসেবে শিক্ষার পাশাপাশি সমাজ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আজ সারা দেশে এবং বিশ্বে সফলতার পরিচয় বহন করছে। আজকের দিনে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান রয়েছে তাদেরকেও স্মরণ করার দিন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার কোনও শেষ নেই। এটি একটি জীবনব্যাপী যাত্রা। যা আমাদেরকে বিকশিত করে। শিক্ষা হলো সেই সেতু যা অজ্ঞতাকে জ্ঞানের সাথে অন্ধকারকে আলোর সাথে যুক্ত করে। স্বামী বিবেকানন্দের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্ণতার বিকাশ সাধনই হচ্ছে শিক্ষা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার বলে এসেছেন শিক্ষা কেবলমাত্র পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয় বরং এটি মূল্যবোধ, বিকাশ ও জাতি গঠনের হাতিয়ার।
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং শিক্ষা পদ্ধতি চালু, বিভিন্ন বিদ্যালয়কে বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে রূপান্তর, আই.সি.টি. সুবিধা প্রদান, স্মার্ট ক্লাস রুম, টিস্কারিং ল্যাব, সুপার ৩০ প্রকল্প, কন্যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বাইসাইকেল প্রদান, চিফ মিনিস্টার্স অ্যানুয়েল স্টেট অ্যাওয়ার্ড চালু, জাতীয় শিক্ষানীতির প্রবর্তন, টি. স্কোয়াফ পদ্ধতি চালু, বিদ্যাসেতু মডিউল, মিশন মুকুল, সহর্ষ কার্যক্রম, পি.এম. জনমন প্রকল্প, একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল স্থাপন, ড্রোন শিক্ষা পদ্ধতি ইত্যাদির কথা তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আজ স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, আইন শৃঙ্খলা ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। রাজ্যের বর্তমান সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা এবং ছাত্রকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গুণগত শিক্ষার প্রসারে ও বিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আজকের দিনটি বিদ্যালয়ের একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের একটি বিরাট ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, আগামীদিনে এই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় শিক্ষানীতিকে পাথেয় করে আরও এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সম্পাদক তথা প্রাক্তন বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তপন চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন...