ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভের পর রাজ্যে প্রায় ৩,৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মৌ স্বক্ষরিত হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জানুয়ারি ৩০, : ত্রিপুরা রাজ্য প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এখানকার বাঁশ-বেত, আনারস, আগর, রাবার সহ বিভিন্ন কৃষিজাত সামগ্রী ব্যবহার করে আগামী দিনে রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা সম্ভব। রাজ্যে আগরকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের বাঁশকে ব্যবহার করে ইথানল কারখানা স্থাপনের জন্য দেশের একটি বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ৩৬তম ত্রিপুরা শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রেফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। এই মেলা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মেলার উদ্বোধনী মঞ্চে রাজ্যে বিনিয়োগকারী কয়েকটি সংস্থাকে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ স্মারক উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানান। উল্লেখ্য, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোন রাজ্যের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হল শিল্প এবং বাণিজ্য। উভয়ই একটি মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। বর্তমান সরকারের সময়ে ত্রিপুরাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। বিগত সরকারগুলির সময়ে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান আন্দোলনের নামে ধ্বংস করা হয়েছে। এরকমটা না হলে আগেই রাজ্য আত্মনির্ভর হয়ে যেত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময় হচ্ছে এআই এবং ফাইভ জি এর যুগ। এই সময় যেকোন ক্ষেত্রের উন্নয়নে ডেটার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাই উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথম এই রাজ্যে এয়ারটেল ডেটা সেন্টার গড়ে তুলবে। যার কাজের সূচনা আজ হয়েছে। রাজ্যের শিল্প স্থাপনে বিভিন্ন পুরনো পলিসিকে সরলীকরণ করা হয়েছে। শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ইনসেনটিভ দেওয়া হচ্ছে। শ্রম শক্তির বিকাশে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম প্রদানের জন্য বিভিন্ন সময় কনক্লেভের আয়োজন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভের পর রাজ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন কাজের দরুণ জাতীয় এবং আঞ্চলিক স্তরে এখন পর্যন্ত রাজ্যকে ৩০০ এর অধিক বিভিন্ন পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজের অর্থনৈতিক এবং বুনিয়াদি উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা যত বেশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন ততই রাজ্য ও দেশ এগিয়ে যাবে।

এই লক্ষ্যে রাজ্যে স্বসহায়ক দলের সদস্যাদের এখন পর্যন্ত ৭০০ কোটি টাকার রিলভিং ফান্ড এবং ১ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লোন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৈরী হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার লাখপতি দিদি। তিনি বলেন, রাজ্যে বাঁশ-বেতের সামগ্রী প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত সামগ্রীগুলি ক্রেতাদের কাছে আরও বেশি আকর্ষনীয় করে তুলতে স্থানীয় কারিগরদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের মতো দেশগুলি থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া যায় কিনা সেদিকে ভাবনা চিন্তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য পতঞ্জলি, তাজ গ্রুপ এর মতো সংস্থাগুলির সাথে মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত বছর অনুষ্ঠিত প্রবাসী ত্রিপুরা সামিটে প্রায় ৮০ জনের বেশি প্রবাসী অংশগ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই আইটি সেক্টরের সাথে জড়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে থেকেও আগামী দিনে রাজ্যে বিনিয়োগ করবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বিদেশী ভাষা শিক্ষার প্রসারেও উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, এবারের মেলা রাজ্য, বহিরাজ্য, বিদেশের মোট ৫৮০টি স্টল খোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু স্বসহায়ক দল এবং এনজিওদের বিনামূল্যে স্টল দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, গত তিন চার বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। এর কারণ বিনিয়োগবান্ধব নতুন নতুন নীতি গ্রহণ। মেলায় দপ্তরের বিভিন্ন পলিসি এবং স্কিম সম্পর্কে একটি থিম প্যাভেলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক মিনারাণী সরকার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল এবং ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান নবাদল বণিক।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.