রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে একটি শিক্ষা হাবে পরিণত করতে চায় : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জানুয়ারি ২৯, : প্রতিটি শিশুই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে তাদের বিকাশ ঘটাতে হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে মূলবোধও জাগ্রত করতে হবে এবং দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় তাদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। ২৮ জানুয়ারি আগরতলার মহারাণী তুলসীবতী উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের ২১০টি বিদ্যালয়ে একযোগে পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং ল্যাবের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন ছাত্রছাত্রীদের অন্তর্নিহিত জ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়ে শিক্ষায় পূর্ণতা লাভ করার নামই প্রকৃত শিক্ষা। আধুনিক প্রযুক্তিসম্মত ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা পদ্ধতির সাথে ছাত্রছাত্রীদের যুক্ত করতে রাজ্য সরকার ২১০টি সরকারি বিদ্যালয়ে পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এই বিদ্যালয়গুলির প্রায় ৬৪ হাজার ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে। এই ব্যবস্থা শিক্ষার মানোন্নয়নে ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য একটা ল্যান্ডমার্ক। বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের গুণগত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্যও রাজ্য সরকার নতুন নতুন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করছে। রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে একটি শিক্ষা হাবে পরিণত করতে চায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার চাপ কমাতে এবং তাদের চিন্তামুক্ত রাখতে বিদ্যালয়গুলিতে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থাও করেছে। তিনি বলেন, রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাতেও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে রাজ্য সরকার কাজ করছে। জনজাতি এলাকায় ২১টি একলব্য বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে আরও ১৫টি একলব্য বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য।

রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয় আলোচনা করতে গিয়ে তিনি সুপার ৩০ প্রকল্প, নিপুণ ত্রিপুরা, বিদ্যাসেতু মডিউল, মিশন মুকুল, পি.এম.-শ্রী, সহর্ষ কার্যক্রম, পি.এম.- পোষণ, বন্দে ত্রিপুরা, পি.এম.-বিদ্যা ডি.টি.এইচ. প্রভৃতি প্রকল্প রূপায়ণের কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন আজ থেকে চালু হওয়া পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং ব্যবস্থায় রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা দপ্তর ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমগ্র শিক্ষার প্রজেক্ট ডিরেক্টর রাজীব দত্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন. সি. শর্মা, এস.সি.ই.আর.টি.-র অধিকর্তা এল ডার্লং, মহারাণী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সর্বাণী দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী মহারাণী তুলসীবতী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং ল্যাবটি ঘুরে দেখেন ও বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। উল্লেখ্য, সমগ্র শিক্ষা প্রজেক্টের অধীনে এই ল্যাবগুলি চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাজ্যে শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.