আগরতলায় হেলথ ইউনিভার্সিটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ২৮, : উন্নয়ন মানে মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। ২৭ জানুয়ারি সাব্রুম মহকুমা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী আজ সারুম মহকুমা হাসপাতালে ৩০০ ইউনিট রক্তের ব্লাড সেন্টার এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সারুম মহকুমা ইন্টিগ্রেটেড আয়ুষ হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী সাব্রুম মহকুমার পূর্ব জলেফায় সাব্রুম মহকুমা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি রক্তদান শিবিরে ৩০ জন রক্তদান করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষকে সহায়তা করার ভাবনা থেকেই মানুষ রক্তদান করেন। রক্তের কোনও বিকল্প হয় না। যান দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য সবচেয়ে বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়। রাজ্যে সরকারিভাবে ১২টি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ২টি ব্লাড সেন্টার রয়েছে। রক্তে প্লাজমা এবং অন্যান্য পদার্থ আলাদা করার জন্য রাজ্যে ৬টি সেন্টার রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য বহির্রাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা মানুষের মধ্যে কমছে। রাজ্যেই এখন উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। রাজ্যে এখন কিডনি প্রতিস্থাপন হচ্ছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে জিবিপি হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটি বিভাগ খোলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ছেলেমেয়েরা যাতে আরও বেশি সংখ্যায় ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেতে পারেন সে লক্ষ্যে রাজ্যে এম.বি.বি.এস.-এর আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫০ করা হয়েছে। ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করে ডেন্টাল পড়ার আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। জি.এন.এম., এ.এন.এম. নার্সিং করার আসন সংখ্যাও আরও ৫০টি বাড়ানো হয়েছে। ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্যে নির্মাণ করা হবে ফার্মেসী কলেজ।
এডিসি এলাকায় একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে। ন্যাশনাল ফরেন্সিক ইউনিভার্সিটি হয়েছে রাজ্যে। হয়েছে ল' ইউনিভার্সিটি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য কলেজ স্থাপন করার জন্য বিনিয়োগকারীরা এখানে আসছেন। এইভাবেই রাজ্যে তৈরি করা হচ্ছে মেডিক্যাল হাব এবং এডুকেশনাল হাব। জেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে মহকুমা হাসপাতালেও এখন ব্লাড সেন্টার খোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় প্রত্যেকে বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। একই রকমভাবে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনাও চালু করা হয়েছে। ত্রিপুরা হচ্ছে দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য যেখানে সমস্ত মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে রোগীদের জন্য ১,৪১৩টি শয্যা করা হয়েছে। আরও ১০০টি শয্যা বাড়ানো হবে। রাজ্যে চালু করা হয়েছে টেলিমেডিসিন বিভাগও। মা ও শিশুদের জন্য হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। ডেন্টাল কলেজের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আই.এল.এস. হাসপাতালের পাশে অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল ও করা হবে। রেন্টার্স কলোনীতে ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হোমিওপ্যাথি কলেজ নির্মাণ করা হবে। ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে টেপানিয়ায় নির্মাণ করা হবে আয়ুর্বেদিক কলেজ। আগরতলায় হেলথ ইউনিভার্সিটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য ১০ টাকায় খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ভারত মাতা ক্যান্টিনে কম খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জেলা হাসপাতালগুলিতে ট্রমা কেয়ার সেন্টার খোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব সুস্থ কৈশোর কর্মসূচিতে ১০ লক্ষ শিশু কিশোরকে যুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে জেলা, মহকুমা থেকে শুরু করে গ্রামীণ স্তর পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। রাজ্যেই এখন উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক মহম্মদ সাজাদ পি.। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন রমা পোদ্দার দে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মাইলায়ু মগ, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার মৌর্য কৃষ্ণ সি., কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এন.এইচ.এম.) ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাজু বাহিদ এ. প্রমুখ। উল্লেখ্য, ৬ কোটি ২২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সাব্রুম মহকুমা আয়ুষ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে একই ছাদের তলায় আয়ুর্বেদ, যোগা এবং হোমিওপ্যাথির চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন...