বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে সামাজিক, আর্থিক, পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রের উন্নয়নে অভাবনীয় ক্রান্তি এসেছে : ডোনার মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ২৪, : কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রকের অধীনে আজ রাজ্যে প্রায় ২২০ কোটি টাকার ৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করা হয়। কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার উপস্থিতিতে প্রজ্ঞা ভবনে এই প্রকল্পগুলির উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর যুগপৎ প্রতিজ্ঞা এবং নেতৃত্বের দরুণ আজ ত্রিপুরা রাজ্য এক উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে সামাজিক, আর্থিক, পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রের উন্নয়নে অভাবনীয় ক্রান্তি এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন ভারত গঠনে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভূমিকাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই এই অঞ্চলের ৮টি রাজ্যকে অষ্টলক্ষ্মী রূপে চিহ্নিত করে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির মাধ্যমে উন্নয়নের এক নতুন দিশায় চালিত করতে ব্রতী হয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলির সময় এই অঞ্চলকে একটি পিছিয়েপড়া অংশরূপে গণ্য করা হত। বর্তমান সরকারের সময়ে এই অংশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আজ ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তিনদিনের রাজ্য সফরে এসেছেন।
আজ কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রকের আওতাধীন ৩টি প্রকল্প যথাক্রমে প্রায় ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি জেলায় ২৭৪টি দুর্গম অঞ্চলে সোলার মাইক্রো গ্রীডের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৫০ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে যতনবাড়ি থেকে মন্দিরঘাট পর্যন্ত ১৩.৭৮ কিলোমিটার রাস্তা এবং ২১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গন্ডাছড়া থেকে নারকেলকুঞ্জ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার উদ্বোধন করা হয়। তাছাড়া ২১ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জম্পুইহিল থেকে কাঙ্গরাই পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তা, ৩০ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কোয়াইফাং থেকে করবুক পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা এবং ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আর কে নগরে ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনায় ডোনার মন্ত্রী ত্রিপুরা রাজ্যের রাজ পরিবারের সঙ্গে তাঁর নিজ পরিবারের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে এরাজ্যের মানুষকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলনে, ত্রিপুরা রজ্যের নদী, পাহাড়, জঙ্গল সর্বত্রই জীবন্ত ইতিহাস বিদ্যমান। রাজ্যের উন্নয়নে এই পরম্পরা ও ইতিহাসকে সাক্ষী রেখেই সকলকে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনার মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে ৫২টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মোট বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ বর্তমান সময়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য ব্যয় করা হচ্ছে। গত ১২ বছরে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ কোটি টাকা এবং শুধুমাত্র গত বছরেই এক লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ফলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে প্রত্যেক বছর প্রায় ১১ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্যে বৃদ্ধির হার বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে রাজ্যের উন্নয়ন প্রতিটি মানুষকে স্পর্শ করছে। রেল, সড়ক পথের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে সারুম পর্যন্ত রেল পথের পাশাপাশি রাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের অধিক জাতীয় সড়ক রয়েছে। ত্রিপুরা বর্তমানে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্য। বর্তমান সরকারের আমলে শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ প্রচুর পরিমাণে আসছে।
অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়কালে বর্তমানে রাজ্যে প্রকৃত স্বর্ণযুগ চলছে। নীতি আয়োগের তথ্য অনুসারে ত্রিপুরা বর্তমানে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে জিএসডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে রাজ্য পুরস্কৃত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় রাজ্যের উপর প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা ছিল। সেই দায় মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকার রাজ্য ও রাজ্যবাসীর উন্নয়নে কাজ করে চলছে। হর ঘর তিরঙ্গা, এক পেড় মা কে নাম, ৭৫ সীমান্ত গ্রাম বীরোকে নাম, লোকাল ফর ভোকাল কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের আপামর জনসাধারণকে দেশাত্মবোধের ভাবনায় উজ্জীবিত করতে পেরেছেন। যা দেশ ও রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অংশুমান দে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ, উত্তর পূর্বাঞ্চল পরিষদের সচিব সত্যেন্দ্র কুমার ভল্লা, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার
অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ বিকেলে আগরতলা গভ: ম্যাডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে প্রসূতি ও শিশু বিভাগের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এবং আগরতলা গভ: ডেন্টাল কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ ঘুরে দেখেন। এই দুটি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজগুলি দেখার পর কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রক রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর উন্নয়নে সব ধরণের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে অর্থের কোন অভাব হবেনা। কিন্তু কাজের গুণগতমানের উপর বিশেষ জোর দিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সরকারিভাবে তদারকি চলবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ত্রিপুরাবাসীকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেবার লক্ষ্যে ডোনার মন্ত্রক বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি এই কাজগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এই দুটি প্রকল্পের সাথে যুক্ত নির্মাণ সংস্থাগুলির কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেন এবং কাজগুলির সঠিক গুণগতমান বজায় রাখার প্রতি নির্দেশ দেন। দুটি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন...