এডিসি ভোটকে সামনে রেখে পাহা ড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে বিরোধী রাও, বিজেপি-র লড়াই কঠিন হচ্ছে দিন দিন

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, সেপ্টেম্বর ২৩, : সংবিধানের ষষ্ঠ তপশীল মোতাবেক গঠিত ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দিন যতই এগিয়ে আসছে তৎপরতা ততই বাড়ছে। একদিকে রাজ্যের শাসক বিজেপি-র শরীক আইপিএফটি তাদের শক্তি মজবুত করছে অন্যদিকে ক্ষমতায় যেতে আইএনপিটি, কংগ্রেস এবং অন্যান্য দল সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।সব দলই বলছে এডিসির হাতে অধিকতর ক্ষমতায়ন। আবার দই একটি দল বলছে টেরিটরিয়াল কাউন্সিল গঠনের।অনেকটা বোড়োল্যান্ড ধাঁচের।

খুমুলুঙং -এর ক্ষমতায় আসতে বিজেপি মরীয়া হয়ে উঠেছে।এরা গ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক তৈরী করছে। ইতিমধ্যেই .এরা মানে রাজ্য সরকার উপজাতীয়দের নানাগোষ্ঠীর প্রধানদের রাজধানীতে এনে ভুরিভোজ করিয়ে সামাজিক ভাতা প্রদানের ঘোষনা করেছে। অবলুপ্ত সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার বা শাসকদলের অভিপ্রায়ের কথা ব্যক্ত করেছে। বিজেপি-র মূল লক্ষ্য এখন উপজাতিয়দের নানাভাবে মন জয় করা। ইতিমধ্যেই এরা বলিন্দ্র দেববর্মাকে মুখ্য নির্বাহী অফিসার হিসেবে বসিয়েছে।যদিও আগেই সে ওই পদে আসীন ছিল। রাজ্য সরকারের পরামর্শ মোতাবেক রাজ্যপাল প্রশাসক ও বসিয়েছে। খুমলুঙ তো এখন বেগবতী। রাজ্য সরকার ঘোষণা দিয়েছে ওখানে মেডিক্যাল কলেজ করবে, করবে বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই অনেক ঘোষনা দেয়া হয়েছে।এদিকে পূর্ববর্তী শাসক দল যে সব বাজেট বরাদ্দ করেছিল এখন এসব ব্যয়িত হচ্ছে। এই যেমন দেয়া হচ্ছে ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র।উপজাতিয়দের নানা অনুষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে কিন্তু কার্পন্য করা হচ্ছে না। বিজেপির নেতৃবর্গ পালা করে এডিসিতে যাচ্ছে, প্রশাসনিক ভবনের নানা অফিসে চক্কর কাটছে।

আইপিএফটি কিন্তু চুপ করে নেই। আইপিএফটি- র নেতারা এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন এরাই খুমুলুঙ-এর গদীতে আসীন। অফিসগুলোতে কর্তৃত্ব খাটানোর জন্য চলছে বিজেপি-আইপিএফটি-র মধ্যে দড়ি টানাটানি। উপজাতি কল্যানমন্ত্রী মেবার জমাতিয়াও নিত্যদিন আগরতলা-খুমুলুঙ ছোটাছুটি করছেন। এনসি দেববর্মাও কম যান না।আইপিএফটি-র অন্যান্য নেতারাও ঘাঁটি গেড়েছেন খুমুলুঙে।এমডিসিদের হোষ্টেল গুলিতো নেতা বাবুদের দখলেই। সিপিএমের এমডিসিরা তো তাদের এলাকায় পড়ে আছেন। সেখানে চলছে তাদের সাংগঠনিক কাজ।এরা মাটি কামড়ে রয়েছেন। সেই সাথে বাড়ী বাড়ী জনসংযোগ, উঠানসভা, সম্মেলন। পার্টি সূচীতো রয়েছেই।জীতেন , রাধা, রন্জিত ঘুরছেন। এদিকে জোনাল, সাব জোনাল অফিস গুলিও নাকি এখন ব্যস্ত।এই বরাদ্দ, তো সে বরাদ্দ। জোনাল, সাব জোনাল অফিস থেকে কিন্তু আর্থিক সাহায্যও করা হচ্ছে। সাহায্যের আশায় নিত্যদিন জনজাতিয়রা অফিসগুলোতে ভীড় জমাচ্ছেন।তাদের সামাল দিতে জোনাল সাব জোনাল দের এখন দফারফা।তবে জোনাল, সাব জোনাল পর্যায়ে বদলী, রদবদল প্রায় নিত্যদিন চলছে। মূলতঃ আসন্ন ভোটকে সামনে রেখেই এই রদবদল বা বদলী।নিন্দুকেরা বলছেন ভোটের অন্তরালে এডিসিতে প্রকারান্তরে কায়েম হয়েছে লুটপাটের রাজত্ব। অন্তত অভিযোগ এমনটাই। ময়দানে বিজেপি , সিপিএম, আইপিএফটি একাই যে তা নয়।কোন এক সময়ের শাসক আইএনপিটি কিন্তু নীরবেই তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে চলছে। নেতৃত্বের সংকটে দিশেহারা আইএনপিটি-র সম্বল এখন জগদীশ দেববর্মা, বিজয় কুমার রাংখল, অনিমেষ দেববরমা,জুনিয়র রবীন্দ্র দেববর্মা, রতীশ দেববরমা প্রমুখ। এরাই ঘুরছেন, দল মজবুত করছেন, আবার মাঠ পর্যায়ে আন্দোলনের নামে ডেপুটেশান দিচ্ছেন। অর্থাৎ দলের কর্মী সমর্থকদের ভোটমুখী করছেন।আইএনপিটি -র ভীত কিন্তু এখনও মজবুত। যদিও তা আগের মত নয়। কিন্তু তাদের বড় সমস্যা অর্থনৈতিক সংকট। দলের সাথে যুক্ত এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, আইএনপিটি গ্রামস্তরে চাঁদা তুলে মজবুত সংগঠন করছে।তবে কংগ্রেস চাইছে আইএনপিটি-র সাথে ভোটে আঁতাত। অন্যদিকে প্রদ্যূৎ কিশোর মানিক্য কিন্তু টিএস এফ কে বগলদাবা করে ভোটের বাদ্যি বাজাতে চাইছেন। খবর হল টিএস এফ -এর বড় অংশ আইএনপিটি-তে ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক কালের এক অনুষ্ঠানে তা পরিলক্ষিত হয়েছে ।এটা ঘটনা উপজাতীয় রাজনীতিতে টিএস এফ বরাবরই বলিষ্ঠ ভূমিকা অবলম্বন করে আসছে। এখনও তাদের মজবুত সংগঠন রয়েছে। কি গ্রাম আর শহরে। আগরতলায় কিন্তু টিএস এফ দিশা নির্দেশক। খবর হল টিএস এফের কিছু নেতাকে গেরুয়া শিবিরে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এঁরা নাকচ করে দিয়েছে বলে খবর। মূলতঃ টিএস এফ যেমন তাদের বাম বিরোধী অবস্থান অটুট রেখেছে তেমনি রাম তাদের চক্ষুশূল। তবে কংগ্রেসের প্রতি অল্পবিস্তর দূর্বলতা রয়েছে।

টিএস এফের নেতা কর্মীরা কিন্তু এখন পাহাড় পর্বত কন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেমনটা ঘুরে বেড়াতেন নগেন্দ্র জমাতিয়া, রবীন্দ্র দেববর্মা, ভীষ্ম দেববরমা, রানাকুসুম, অমিয় দেববর্মা। জগদীশ, ছোট রবি, রতীশ-রাও কম যায়না।এদিকে পার্বত্য অঞ্চল আগামী কিছুদিনের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠবে তা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।যদিও এখন করোনা অতিমারীতে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা রয়েছে। তবে এটা বাস্তব অতিমারী কিন্তু উপজাতিয় অন্চলে নাই বলা চলে। যদিও সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করছে একাংশ।


You can post your comments below  
নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।  
বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।
 
Free Download Avro Keyboard  
Name *  
Email *  
Address  
Comments *  
 
 
Posted comments
Till now no approved comments is available.