নেতাজীর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ২৪, : নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ আজও বর্তমান প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস। ভারতের স্বাধীনতার জন্য নেতাজীর আত্মবলিদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২৩ জানুয়ারি নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতন মাঠে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১৩০তম জন্মদিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৃটিশ শাসক অনেকবার নেতাজীকে কারারুদ্ধ করেও তাঁর মতাদর্শ ও দেশপ্রেম থেকে তাঁকে টলাতে পারেনি। নেতাজী আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। নেতাজীর বিখ্যাত উক্তি ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব' আজও দেশবাসীর মনে শিহরণ জাগায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা কখনো ভিক্ষা করে পাওয়া যায়না, তা সংগ্রামের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়। নেতাজীর জীবন আমাদের শেখায় যে অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা নয়, এর বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাড়াতে হবে। ছাত্রছাত্রী ও যুব সমাজকে নেতাজীর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনে ছাত্রছাত্রীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নেতাজীর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার নেতাজীর জন্মদিন পরাক্রম দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ২০২২ সালে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে ২৮ ফুট উঁচু নেতাজী মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৫১ সাল থেকে প্রতিবছর নেতাজীর জন্মদিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আগরতলা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। আজকের এই দিনটি নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতনের ছাত্রছাত্রীদের কাছে একটি বিশেষ দিন। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নেতাজীর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতনের বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সম্পাদক ডা. দিলীপ কুমার দাস। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, কর্পোরেটর রত্না দত্ত, বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সহ সভাপতি প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তপন চক্রবর্তী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পন করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী নেতাজী জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সূচনা করেন। শোভাযাত্রায় নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতনের ছাত্রছাত্রী সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক শিক্ষিকাগণ অংশগ্রহণ করেন এবং শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে।
আরও পড়ুন...