সমাবর্তন হলো শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও চরিত্র গঠনের প্রকাশ্য স্বীকৃতি : রাজ্যপাল
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ১৮, : ১৭ জানুয়ারি এন.আই.টি. আগরতলার ১৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান জিরানীয়াস্থিত এন.আই.টি.-র বিবেকানন্দ সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান কেবলমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি বছরের পর বছর ধরে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও চরিত্র গঠনের প্রকাশ্য স্বীকৃতি। এই দিনটি নীরব ত্যাগ, নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহসী যাত্রাকে উদযাপন করার দিন। তিনি অনুষ্ঠানে সমস্ত স্নাতক শিক্ষার্থীকে এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আজকের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী ২৬ জনকে রাজ্যপাল স্বর্ণপদক ও শংসাপত্র তুলে দেন।
রাজ্যপাল এন.আই.টি. আগরতলার শিক্ষকবৃন্দের শিক্ষাদান ও দিকনির্দেশনার জন্য, কর্মীদের নিরলস সহায়তার জন্য এবং সমগ্র প্রতিষ্ঠানকে তরুণ মেধা গঠন, মূল্যবোধ দৃঢ় করা ও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আজ শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক পরীক্ষা শেষ করেছেন, কিন্তু জীবনের প্রকৃত পরীক্ষা এখনই শুরু। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলির সমাধানে উদ্ভাবন করাই হবে তাদের লক্ষ্য। ‘সেবা ও গবেষণা’- এই হওয়া উচিত তাদের মূলমন্ত্র। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্য দিতে হবে এবং পরিবারসম শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের সম্মান করতে হবে। শতাব্দী প্রাচীন বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতায় নিজেদের নিয়মিত আপডেট করা অপরিহার্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি সহ ভবিষ্যতের নানা ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। এন.আই.টি.গুলি প্রথমে আঞ্চলিক প্রকৌশল কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল স্থানীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন। ত্রিপুরার ক্ষেত্রে বাঁশ, আগর, প্রাকৃতিক রাবার ও তার উপজাত পণ্যের বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে প্রভাব ফেলতে পারে এমন উদ্ভাবনের আহ্বান জানান তিনি।
রাজ্যপাল বলেন, এন.আই.টি. আগরতলা ত্রিপুরার শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এটি ১৯৬৫ সালে ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৬ সালে এন.আই.টি.-তে রূপান্তরিত হয়ে প্রায় ছয় দশক ধরে দেশসেবায় নিয়োজিত। জাতীয় গুরুত্বের প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি জাতীয় দায়িত্ব বহন করার পাশাপাশি ত্রিপুরার মূল্যবোধ প্রতিভার প্রতিনিধিত্ব করছে। ভারতের বর্তমান সময়কে এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ ‘বিকশিত ভারত- ২০৪৭’-এর পথে এগিয়ে চলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও মহাকাশ প্রযুক্তি বিশ্বকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এন.আই.টি. আগরতলার অধিকর্তা প্রফেসর শরৎ কুমার পাত্ৰা।
আরও পড়ুন...