বিভাজন নীতির মাধ্যমে জনজাতিদের বিভ্রান্ত করে রাজনীতি করলে তা রাজ্যের উন্নয়নেরই পরিপন্থী হবে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ১৮, : জাতি, জনজাতি, সংখ্যালঘু সহ সকল মানুষের একতাই হলো রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। কেবলমাত্র একটি জাতি বা জনজাতি শ্রেণির উন্নয়নের মাধ্যমে কখনোই রাজ্য বা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। বিভাজন নীতির মাধ্যমে জনজাতিদের বিভ্রান্ত করে রাজনীতি করলে তা রাজ্যের উন্নয়নেরই পরিপন্থী হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবধারা এবং নীতি নির্দেশনায় নতুন ভারতবর্ষ গঠনে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাই বর্তমান সরকারের কোনও পরামর্শদাতার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন রাজ্যের সুশাসন ও উন্নয়নে একজন প্রকৃত সহযোগী। ১৭ জানুয়ারি মোহনপুর মহকুমার মধুচৌধুরী পাড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দ্বিতল ভবনের দ্বারোদঘাটন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি মহকুমার আরও ৩টি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় যথাক্রমে তারাপুর উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোপালনগর উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বেড়িমুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন। এক্ষেত্রে বেড়িমুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা এবং বাকি তিনটি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ৩ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা করে ব্যয় হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজ্য ও রাজ্যবাসীর কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, বর্তমান সরকার ও উন্নয়ন সমার্থক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি জরুরি পরিষেবার উন্নয়নে বিগত সরকারগুলি বিশেষ দৃষ্টি দেয়নি। যার ফলে তাদের না করে যাওয়া কাজের বোঝা আজ বর্তমান সরকারকে বইতে হচ্ছে। কিন্তু তবুও গত ৭ বছরে রাজ্যের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। এবছরের বাজেটে রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল এবং এই টাকা সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তারজন্য সময়ে সময়ে বৈঠক করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত শিক্ষা একজন প্রকৃত মানুষকে গড়ে তোলে। আমাদের ছাত্রছাত্রীদের স্বামী বিবেকানন্দ, ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণের মতো ব্যক্তিত্বদের দর্শন, শিক্ষা, আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত। তাহলেই নিজের অন্তর্নিহিত মানবতাবোধের বিকাশ হবে। শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। ছাত্রছাত্রীদের সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং বর্তমানের এই বিজ্ঞানের যুগে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে অবগত করাতে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও নিজেদের সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৮ থেকে ২৩ বছরের যুব সমাজকে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। তাহলেই তারা নেশায় আসক্ত হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলি থেকে দূরে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ১২টি একলব্য বিদ্যালয় চালু হয়ে গেছে। আরও ৯টি বিদ্যালয় আগামী কিছুদিনের মধ্যেই চালু হবে। তিনি বলেন, একলব্য বিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশিকা শিথিল করার মাধ্যমে রাজ্যে আরও ১৫টি এই ধরনের বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী নিপুণ ত্রিপুরা, মিশন মুকুল, সহর্ষ, লক্ষ্য প্রকল্প, মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনা প্রভৃতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা ভালো হয়েছে। তারজন্য আগামীদিনে রাজ্যে প্রচুর বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের একবিংশ শতকের যোগ্য করে তুলতে শিক্ষাই হলো অন্যতম হাতিয়ার। তিনি বলেন, বর্তমানে ৪৭৮টি বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু রয়েছে। ৪২২টি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় রয়েছে। জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২৭টি হোস্টেল চালু করা হয়েছে, ৪২টির কাজ চলছে এবং ৩১টির কাজ শুরু হবে। জনজাতিদের ৬৯ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমিতে রাবার বাগান করে দেওয়া হয়েছে। জনজাতি এলাকার ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩টি সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল মাঠ তৈরি করা হয়েছে এবং আরও ২টির কাজ চলছে। জনজাতি এলাকায় আরও ১১৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে জাইকা ২.০ প্রকল্পে ৯৯৮ কোটি টাকা এবং ইন্দো জার্মান ২.০ প্রকল্পে ২৮০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়াও তিনি লেফুঙ্গা ব্লক এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন.সি. শর্মা এবং ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন লেফুঙ্গা বি.এ.সি.-র চেয়ারম্যান রণবীর দেববর্মা। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লেফুঙ্গা বি.এ.সি.-র ভাইস চেয়ারম্যান বুধু দেববর্মা, হেজামারা বি.এ.সি.-র ভাইস চেয়ারম্যান নীহার আর. দেববর্মা এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার এস.পি. নমিত পাঠক। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে ৪টি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উপর একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়।
আরও পড়ুন...