শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রতিনিয়ত পড়াশুনার পাশাপাশি তাদের সুস্থ সংস্কৃতির সংস্পর্শে রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ১৩, : শিশুদের তার অন্তর থেকে তার ভাবনাকে বিকশিত হওয়ার রাস্তা তৈরি করে দিতে হবে। নিজেদের মতামতকে শিশুদের উপর চাপিয়ে না দিয়ে তাদের মতো তাদের বড় হতে দিতে হবে। প্রতিটি শিশুই সমাজের সম্পদ। ১২ জানুয়ারি জয়নগরস্থিত নবদিগন্ত ক্লাবে আয়োজিত শিশু উৎসবের সমাপ্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্ৰী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুই নিজ নিজ বিভিন্ন প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। তাই প্রতিটি শিশুই ভবিষ্যতের সম্পদ এবং তারা বড় হয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস তৈরি করার অধিকারী হতে পারে। শিশুদের স্বচ্ছতার পরিবেশের মধ্য দিয়ে বড় হতে দিতে হবে এবং তাদের হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে হবে। সেটা অভিভাবক ও শিক্ষকদের বিশেষ গুরুত্ব সহ দেখতে হবে৷৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার শিশুদের সময়োপযোগী শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। চাইল্ড ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে যত বেশি স্বচ্ছ ধারণা থাকবে তত বেশি শিশুদের সঠিক শিক্ষাদান দেওয়া সম্ভব হবে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রতিনিয়ত পড়াশুনার পাশাপাশি তাদের সুস্থ সংস্কৃতির সংস্পর্শে রাখতে হবে এবং আধ্যাত্মিকতায় উৎসাহ দিতে হবে। প্রত্যেক শিশুকে প্রকৃত মানুষ করে গড়ে তুলতে হবে। রাজ্য সরকার শিশুদের সুস্থ বিকাশে মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৈশোর প্রকল্প চালু করেছে। এক্ষেত্রে গত ১ বছরে ১০০ শতাংশ সাফল্য এসেছে। আরও ৩ লক্ষ শিশুকে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দেশের শিশু ও যুবকরা হলো অন্যতম মানবসম্পদ। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষা পে চর্চা, মন কি বাত সহ আরও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। শিশু ও যুবাদের স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় নিজেদের পরিচালিত করতে উৎসাহ দিতে হবে। প্ৰধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের মানবসম্পদকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি উন্নত দেশ গড়ার প্রয়াস নিয়েছেন। সেই দিশায় রাজ্য সরকারও রাজ্যকে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াসে ব্রত। রাজ্যে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলার পরিবেশ ভালো রয়েছে। এই প্রথম রাজ্য ভালো আইন শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অনেক উপরে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুরনিগমের ৩৪ নং ওয়ার্ডের কর্পোরেটর জাহ্নবী দাস চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবদিগন্ত ক্লাবের সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৩৫ নং ওয়ার্ডের কর্পোরেটর তুষার কান্তি ভট্টাচার্য, নবদিগন্ত ক্লাবের সভাপতি গৌতম বৈদ্য। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শিশু উৎসবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৫ জনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন। শিশু উৎসবে মার্শাল আর্ট, যোগা, নৃত্য, সংগীত, বসে আঁকো সহ নানা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের পুরস্কৃত করা হয়।
আরও পড়ুন...